এনএসসির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান বুলবুলের, চাইলেন আইসিসির হস্তক্ষেপ

ঢাকা, ৮ এপ্রিল – বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচন নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন সদ্য সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এই প্রতিবেদনকে তিনি ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালি এবং আইনি ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন। একই সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
এক বিবৃতিতে আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানান, এনএসসির এই তদন্ত একটি দুরভিসন্ধিমূলক উদ্যোগ এবং আইনের দৃষ্টিতে এটি একেবারেই বৈধ নয়। তার দাবি, বিসিবির সংবিধান মেনেই অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে ওই নির্বাচন পরিচালিত হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসাইনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বৈধ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়। সেই কমিশনে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিআইডির প্রধান ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক।
বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে তামিম ইকবালের কাউন্সিলরশিপ এবং ১৫টি ক্লাব নিয়ে ওঠা আপত্তিগুলো যথাযথ শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়েই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনকে ঘিরে ফিক্সিংয়ের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা কিছু সাবেক ক্রিকেটারের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সৃষ্ট ভিত্তিহীন প্রচারণা বলে তিনি দাবি করেন।
বুলবুলের মতে, একটি স্বায়ত্তশাসিত ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন প্রক্রিয়া তদন্ত করার কোনো এখতিয়ার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নেই। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী সদস্য বোর্ডগুলোকে সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত থাকতে হয়। এনএসসির এই পদক্ষেপকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিহিংসা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিসিবির নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনকেও অবৈধ এবং আইসিসির নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দাবি করেন তিনি। বুলবুল সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এক বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হবে এবং বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারাবেন। রাজনৈতিক এই অস্থিরতা তরুণ ক্রিকেটারদের ভবিষ্যতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
হাইকোর্ট অন্য কোনো রায় না দেওয়া পর্যন্ত নিজেকে বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি হিসেবে দাবি করেন বুলবুল। ক্রিকেট প্রশাসনের স্বাধীনতা রক্ষায় আইসিসিকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এরপর তামিম ইকবালকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। এই কমিটি আগামী তিন মাস বোর্ডের দায়িত্ব পালন করবে এবং নতুন নির্বাচনের আয়োজন করবে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তামিম ইকবাল জানান, দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি উদ্ধার করাই তার কমিটির প্রধান লক্ষ্য।
এনএন/ ৮ এপ্রিল ২০২৬









