মধ্যপ্রাচ্য

ট্রাম্পের সময়সীমা শেষের আগেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ব্যাপক হামলা

তেহরান, ৭ এপ্রিল – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র।

হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে আসার জন্য ট্রাম্প যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই ইরানের বিভিন্ন শহরের রেল যোগাযোগ, আবাসিক ভবন ও কৌশলগত তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়। আবাসিক এলাকা ও রেলপথে এই হামলার তীব্র প্রভাব পড়েছে।

ইরানের শাহরিয়ার এলাকায় একটি শক্তিশালী বিস্ফোরক আবাসিক ভবনে আঘাত হানলে অন্তত নয়জন নিহত এবং পনেরোজন আহত হন। এর পাশাপাশি ইরানের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অচল করে দিতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে।

মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, কাশান এলাকার ইয়াহইয়া আবাদ রেলওয়ে সেতুতে ইসরাইলি হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া জানজান, কাজভিন ও কারাজ প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে অবকাঠামোগুলোতে ধারাবাহিক হামলার খবর নিশ্চিত করেছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট এবং স্থানীয় প্রশাসন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ সামরিক কাঠামোতে হামলা চালিয়েছে।

ইরান আগে থেকেই অভিযোগ করছিল যে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে এই দ্বীপটি ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছে।

ইরানের বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফ্রান্স। মঙ্গলবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেন, বেসামরিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং যুদ্ধনীতির পরিপন্থী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ ধরনের হামলা কেবল যুদ্ধকেই উসকে দেবে না, বরং এটি এক বিপজ্জনক প্রতিহিংসার চক্র তৈরি করবে।

এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগেই হুমকি দিয়েছিলেন, মঙ্গলবার রাতের মধ্যে ইরান দাবি না মানলে তাদের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করে দেওয়া হবে। বর্তমানের এই ধারাবাহিক হামলাগুলো সেই হুমকিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই উত্তেজনা এখন শুধু সামরিক সংঘাত নয়, বরং একটি মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

এনএন/ ৭ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language