মধ্যপ্রাচ্যে তথ্যযুদ্ধ: বৈশ্বিক প্রচারণায় বাজেট বাড়িয়েছে ইসরায়েল

তেল আবিব, ৫ এপ্রিল – মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এখন আর কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি বিস্তৃত হয়েছে তথ্য ও বয়ানের লড়াইয়েও। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক পর্যায়ে নিজেদের পক্ষে প্রচারণা জোরদার করতে বাজেটের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে ইসরায়েল। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মাঝে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ইসরায়েলপন্থী কনটেন্টের পরিমাণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা দাবি করছেন।
ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ কৌশল বা হাসবারা নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। হিব্রু ভাষার এই শব্দের অর্থ হলো ব্যাখ্যা দেওয়া। মূলত বিদেশি নাগরিকদের কাছে রাষ্ট্রের অবস্থান পরিষ্কার করতেই এই কৌশল ব্যবহার করা হয়। ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস এবং দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বহু বছর ধরে এই পদ্ধতি অনুসরণ করে আসছে। প্রকাশিত বাজেটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রচারণা ও পাবলিক ডিপ্লোম্যাসির জন্য প্রায় ২ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন শেকেল বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এই অঙ্কটি আগের বছরের ৫৪৫ মিলিয়ন শেকেল বরাদ্দের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। শিক্ষাবিদদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, বিজ্ঞাপন প্রদান, কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং ইনফ্লুয়েন্সার ও বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজে ব্যয় করা হয়। শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জ্যারেড আহমেদ জানান, পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই মূলত এই খাতে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে।
তিনি মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত চ্যাটবট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার অভিযান এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এই অর্থ ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার মতে, সশস্ত্র যুদ্ধের পাশাপাশি তথ্যযুদ্ধ এখন সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। মিডিয়া স্কলার ম্যাথিউ ফোর্ড এবং অ্যান্ড্রু হসকিন্সও মনে করেন, বর্তমান সময়ে যুদ্ধ এবং তার গণমাধ্যম উপস্থাপন একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, বৈশ্বিক বার্তা আদানপ্রদান বর্তমান সময়ে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তার মতে, বার্তা দেওয়া এবং পাল্টা বার্তা ছোঁড়া আধুনিক সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা একমত যে, বর্তমান সংঘাতগুলো কেবল যুদ্ধময়দানের লড়াই নয়, বরং ডিজিটাল জগতেও এটি সমানভাবে তীব্র আকার ধারণ করেছে। ছবি, ভিডিও এবং বার্তা খুব দ্রুত সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে সক্ষম।
এস এম/ ৫ এপ্রিল ২০২৬









