পরীক্ষায় কোনোভাবেই নকল হতে দেওয়া হবে না: শিক্ষামন্ত্রী

কুমিল্লা, ৪ এপ্রিল – শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, দেশে পরীক্ষার হলে নকলের সূচনা হয়েছিল ১৯৭২ সালে এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে তা বন্ধ করা হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরীক্ষায় কোনোভাবেই আর নকল হতে দেওয়া হবে না বলে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
শনিবার কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড এবং এ অঞ্চলের কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরাই একসময় নকলের শুরু করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তারাই তা বন্ধ করেছিলেন। সরকার যেভাবে চায়, শিক্ষকদের সেভাবেই কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি অতীত পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ২০০২ সালে কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার নেমেছিল ২৯ শতাংশে এবং ২০০৩ সালে তা ৩৩ শতাংশে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে পাসের হার আবার কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাঝখানে পড়াশোনার মান ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং ব্যাপক হারে নকল হয়েছিল।
বর্তমান প্রজন্মের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, যারা দ্বিতীয়বারের মতো দেশকে স্বাধীন করেছে, সেই তরুণ সমাজ কখনোই খারাপ ফলাফল করতে পারে না। পুরো জাতি আজ সত্যের পথে রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
বর্তমানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নকল হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ ধরনের অপরাধ দমনে ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনে অনেক নতুন বিষয় সংযোজন করা হয়েছে। পরীক্ষার হলের বাথরুমে নকল পাওয়া গেলে বা বাইরে থেকে নকল সরবরাহ করা হলে কেন্দ্র সচিবকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, মানবসম্পদ গড়তে হলে কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য, তাদের এক বছরের জন্য ছাড় দেওয়া হবে। তবে পরীক্ষার কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য আইপিএস রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগামী দিনে সব ধরনের কোচিং সেন্টার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় দুর্বল হলে শিক্ষকরা নিজ প্রতিষ্ঠানেই অতিরিক্ত ক্লাস নিতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান মো. শামছুল ইসলাম। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, মো. আবুল কালাম, মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, মো. জসীম উদ্দিন, এম এ মান্নান, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন, মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান মিয়া মো. নুরুল হক, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান এবং পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
এনএন/ ৪ এপ্রিল ২০২৬









