সাবেক গভর্নর আহসান মনসুরের বিরুদ্ধে সিএসআর তহবিল তছরুপের অভিযোগ

ঢাকা, ৩ এপ্রিল – বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্যোবিদায়ি গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর তহবিল তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা তাঁর বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্বজনপ্রীতি করে ব্যক্তিগত পরিচিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময় দায়িত্ব পালন করা গভর্নরদের অন্যতম ড. আহসান এইচ মনসুর। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র অনুযায়ী, সিএসআর তহবিল সাধারণত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে ব্যয় করা হয়। কিন্তু সদ্য সাবেক এই গভর্নরের মেয়াদে চুয়াডাঙ্গায় তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর প্রতিষ্ঠিত খলিল মালিক ফাউন্ডেশনকে কোনো যাচাইবাছাই ছাড়াই তিন কোটি টাকা দেওয়া হয়। দ্রুত এই অনুদান ছাড় করতে বিভাগীয় পর্যায়ে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া, চুয়াডাঙ্গা উচ্চবিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাবের জন্য ২৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়, যার উদ্বোধনে তিনি সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি বিদ্যালয়ে অনুদান দেওয়ার নজির না থাকলেও তাঁর শৈশবের বিদ্যাপীঠ নীলফামারী উচ্চ বিদ্যালয়কে অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি টাঙ্গাইলের করটিয়ায় মার্থা লিন্ডস্ট্রম নূরজাহান বেগম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুদান দেওয়া হয়, যেখানে তিনি নিজেই পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ঘটনা স্পষ্টতই স্বার্থের সংঘাত। অন্যদিকে, দুর্নীতি দমনের কথা বলে ১১টি যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো ফল আসেনি।
বরং শিল্পগোষ্ঠীর ওপর নজরদারির কারণে নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা তৈরি হয়। এছাড়া, বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট থেকে স্থগিত ব্যাংক হিসাবের তথ্য ঘনিষ্ঠ চক্রের কাছে পাচার এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানকে পাশ কাটিয়ে দরপত্র ছাড়া প্রায় দুই কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি কেনার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে। একদিকে আর্থিক খাতে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে এসব অনিয়মের অভিযোগ তাঁকে বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
এস এম/ ৩ এপ্রিল ২০২৬









