মার্চে দেশে রেমিট্যান্স এল ৩৭৫ কোটি ডলার, ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড

ঢাকা, ১ এপ্রিল – সদ্যবিদায়ী মার্চ মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা পৌনে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। স্বাধীনতার পর দেশের ইতিহাসে একক কোনো মাসে এটিই সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে বুধবার এ তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫ হাজার ডলার। এই অঙ্ক আগের মাস ফেব্রুয়ারির চেয়ে প্রায় ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেশি এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৬ কোটি ডলার বেশি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩০২ কোটি ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, এর আগে দেশের ইতিহাসে একক কোনো মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের মার্চে, যার পরিমাণ ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে গত বছরের ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ আসে গত জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদকে কেন্দ্র করে মার্চে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে যা একটি স্বাভাবিক প্রবণতা। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোতে এখনো কাজের সুযোগ রয়েছে এবং বেকারত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি।
জীবনযাত্রার ব্যয় খুব বেশি না বাড়ায় প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর সক্ষমতা মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। হুন্ডি কমে আসায় বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে নতুন কর্মী বিদেশে যাওয়ার পথ সীমিত থাকায় ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এখনো সামষ্টিকভাবে প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর খুব বেশি পড়েনি। সেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় খুব বেশি না বাড়ায় রেমিট্যান্স পাঠানোর সক্ষমতা কমেনি। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব পড়তে পারে। তিনি আরও জানান, নতুন কর্মী পাঠানোর পথ অনেক ক্ষেত্রে সীমিত হয়ে পড়েছে, যা ভবিষ্যতে রেমিট্যান্সের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, যুদ্ধের কারণে কাতারের মতো বিভিন্ন দেশে উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তথ্য অনুযায়ী, মার্চে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৬৪ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২৬৪ কোটি ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ২০ হাজার ডলার।
অন্যদিকে বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বেসরকারি খাতের আইসিবি ইসলামি ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক এবং বিদেশি খাতের ব্যাংক আলফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে এ সময়ে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি।
এনএন/ ১ এপ্রিল ২০২৬









