জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে সংসদে মুখোমুখি সরকারি ও বিরোধী দল

ঢাকা, ৩১ মার্চ – জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি হওয়া বৈঠক আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটায় পুনরায় শুরু হয়েছে। এই অধিবেশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কারের ওপর দুই ঘণ্টাব্যাপী নির্ধারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এই বিশেষ আলোচনাকে কেন্দ্র করে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও মুখোমুখি অবস্থানের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপন করা একটি মুলতবি প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে এই দুই ঘণ্টার আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজকের দিনের কার্যসূচির সর্বশেষ বিষয় হিসেবে প্রস্তাবটি রাখা হয়েছে। তবে গত রোববারের অধিবেশনে এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ডেপুটি স্পিকারের মধ্যে যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল, তার রেশ ধরে মঙ্গলবারের আলোচনা বেশ উত্তপ্ত হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ডেপুটি স্পিকারের রুলিং অনুযায়ী, নির্ধারিত দুই ঘণ্টার সময়জুড়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এই প্রস্তাবের ওপর তাদের নিজ নিজ অবস্থান ও বক্তব্য তুলে ধরবেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৯ মার্চ রোববারের অধিবেশনে। সেদিন স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদ পরিচালনা করছিলেন ডেপুটি স্পিকার। ওই বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদ মুলতবি করে জুলাই সনদ এবং সংস্কার পরিষদ প্রস্তাবিত বিষয়ে জরুরি আলোচনার দাবি জানান। এই দাবির প্রেক্ষিতে ডেপুটি স্পিকার সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৬৫ এর ২ ধারা অনুযায়ী আলোচনার জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন।
তবে ডেপুটি স্পিকার যখন এই রুলিং দিচ্ছিলেন, তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলোচনার নোটিশ সংশোধনের দাবি তুললে সংসদ কক্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সে সময় জানিয়েছিলেন যে, তিনি মঙ্গলবারের আলোচনার সঙ্গে সম্মতি প্রকাশ করছেন, তবে আলোচনা নির্ধারণ করতে হলে নোটিশটি কিছুটা সংশোধন করে নিতে হবে। এর জবাবে ডেপুটি স্পিকার কঠোর অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সবাইকে নিজ নিজ আসনে বসার নির্দেশ দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনরায় কথা বলার চেষ্টা করলে তাকে থামিয়ে দেওয়া হয়।
সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, আজকের আলোচনায় বেশ কয়েকটি বিষয় মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নোটিশ সংশোধনের যে কথা বলেছিলেন, তা নিয়ে নতুন করে কোনো বিতর্কের সৃষ্টি হয় কি না সেদিকেই সবার তীক্ষ্ণ নজর থাকবে।
অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ইতোমধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, স্পিকারের রুলিংয়ের পর আর কোনো তর্কের সুযোগ নেই। তারা তাদের মূল দাবিগুলো জোরালোভাবে সংসদে তুলে ধরবেন। মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার দিন হওয়ায় সংসদ অধিবেশনে সদস্যদের উপস্থিতি অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের যেকোনো যুক্তির যথাযথ জবাব দেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, বিরোধী দলও তাদের প্রস্তাবের সপক্ষে শক্ত ও জোরালো যুক্তি উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত। সব মিলিয়ে জাতীয় সংসদ এক প্রাণবন্ত এবং চরম বিতর্কমুখর রাজনৈতিক আলোচনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে।
এনএন/ ৩১ মার্চ ২০২৬









