হরমুজ প্রণালি অবরোধ: জ্বালানি সংকটে এশিয়ায় ফিরছে করোনা আমলের বিধিনিষেধ

তেহরান, ২৫ মার্চ – গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ব জ্বালানি বাজার চরম অস্থিরতার সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো এই জ্বালানি সংকট সামলাতে গিয়ে ব্যাপক হিমশিম খাচ্ছে।
কারণ, এই অঞ্চলের দেশগুলো তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই হরমুজ প্রণালি দিয়ে আমদানি করে থাকে। বর্তমানে এই প্রণালিটি ইরান প্রায় পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এমন নজিরবিহীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় এশিয়ার দেশগুলো এখন তাদের কোভিড মহামারী কালের পদক্ষেপগুলো পুনরায় ফিরিয়ে আনার চিন্তাভাবনা করছে। ঘরে বসে অফিস করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ার মতো বিষয়গুলো আবার আলোচনায় আসছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা তেলের দামের চাপ কমাতে ঘরে বসে কাজ করা এবং বিমান ভ্রমণ এড়িয়ে চলার প্রস্তাব দিয়েছে। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল জানান, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইউরোপীয় দেশগুলো এই পদ্ধতি মেনে চলে রাশিয়ার জ্বালানি ছাড়াই পরিস্থিতি সফলভাবে সামাল দিয়েছিল।
দক্ষিণ কোরিয়া তাদের নাগরিকদের গোসলের সময় কমানো থেকে শুরু করে দিনের বেলায় ফোন চার্জ দেওয়া এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ভ্যাকিউম ক্লিনার চালানোর মতো কৃচ্ছ্রসাধনের অনুরোধ জানিয়েছে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী কিম সুং হোয়ান জানিয়েছেন, তারা সরকারিভাবে ঘরে বসে কাজ করার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছেন।
পাকিস্তান ইতোমধ্যেই দুই সপ্তাহের জন্য স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে এবং অফিসকর্মীদের ঘরে বসে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রতি বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চারনাভিরাকুল সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর স্থগিত করেছেন। তিনি এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রির ওপরে রাখা এবং লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি পোশাকের ক্ষেত্রেও স্যুট এবং টাই বর্জন করতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে ফিলিপিন্স বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এই যুদ্ধের প্রেক্ষিতে জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। দেশটিতে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ফার্দিন্যান্দ মার্কোস এই পরিস্থিতিকে দেশের জ্বালানি সরবরাহের জন্য আসন্ন বিপদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ায় আতঙ্কিত হয়ে তেল মজুত করার ফলে শত শত পেট্রোল পাম্প জ্বালানি শূন্য হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার তেলের দাম নিয়ে কারসাজি করলে দ্বিগুণ জরিমানার আইন পাস করতে যাচ্ছে। এছাড়া জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় জাপান সরকার বিপুল অঙ্কের ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
নিউজিল্যান্ডও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের প্রধান বৈশ্বিক অর্থনীতিবিদ জেনিফার ম্যাককিউন জানিয়েছেন, তেলের দাম বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এক চরম উভয়সংকটে পড়ে যায়। একদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়ে এবং অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল হয়ে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়।
এনএন/ ২৫ মার্চ ২০২৬









