মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি স্থাপনায় সিরিজ হামলা, ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতে উত্তেজনা চরমে

জেরুজালেম, ১৯ মার্চ – ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। উপসাগরীয় একাধিক দেশের জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে ইরান এবং তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কাতারের রাস লাফানে অবস্থিত প্রধান গ্যাস স্থাপনায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সৌদি আরব কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সৌদি আরব বলেছে যে ইরানের প্রতি তাদের যে সামান্য আস্থা অবশিষ্ট ছিল তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এদিকে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরে অবস্থিত সৌদি আরামকোর সামরেফ তেল শোধনাগারে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এই ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনো জানা যায়নি।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার সকালে কুয়েতের একটি তেল শোধনাগারেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। কুয়েতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে হামলায় সেখানে সীমিত মাত্রায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ এই শোধনাগারটির দৈনিক ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
কুয়েত নিউজ এজেন্সি কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের বরাতে জানিয়েছে যে মিনা আল আহমাদি শোধনাগারের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির বেশ কয়েকটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি স্থাপনায় পুনরায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ভোরে এই হামলার পর স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের আগুন ধরে যায়। কাতার এনার্জি জানিয়েছে সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি নিশ্চিত করেছে যে হামলায় তাদের পার্ল জিটিএল স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সেখানে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। উল্লেখ্য গতকাল বুধবার ভোরে ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এর পরপরই ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে।
এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঁচটি প্রধান তেল স্থাপনার নিকটবর্তী এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এ এম/ ১৯ মার্চ ২০২৬









