নীলফামারী

সৈয়দপুরে অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪৩ কোটি টাকা গায়েব, কর্মকর্তা পলাতক

নীলফামারী, ১১ মার্চ – নীলফামারীর সৈয়দপুরে শহীদ তুলশিরাম সড়কে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি শাখার ভল্ট থেকে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। গত দুই বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত ব্যাংকটির ওই শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমাল বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বা অডিট চলাকালে জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের এই ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ্যে আসে।

প্রধান কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মেহেদী রহমানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্ত দলের অন্য সদস্যরা হলেন সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার আনোয়ারুজ্জামান, খালেদ মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন, প্রিন্সিপাল অফিসার কাজী মো. সোলায়মান হোসেন, দেবাশীষ মল্লিক, মো. ইকবাল কবীর এবং একেএম ফজলুল করিম। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রংপুরে অগ্রণী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৈয়দপুর শাখা থেকে সরানো ৪৩ কোটি টাকার মধ্যে ১৫ কোটি টাকা রংপুরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার ইসলামী ব্যাংকিং শাখায় স্থানান্তর করা হয়েছিল।

এছাড়া ওই শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক আব্দুল লতিফের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ৪৫ লাখ টাকা পাঠানো হয়। এ বিষয়ে সাবেক ব্যবস্থাপক আব্দুল লতিফ জানান, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তমালের কাছে তিনি ৪৫ লাখ টাকা পেতেন এবং সেই পাওনা টাকাই পরিশোধ করা হয়েছে। অর্থ আত্মসাতের কোনো তথ্য তার জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন। যেহেতু বিষয়টি তদন্তাধীন, তাই তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তমাল ব্যাংকের কয়েকজন সহকর্মীর অ্যাকাউন্ট আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলেন এবং সেই অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে টাকাগুলো সরিয়ে নেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সৈয়দপুর শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, এত বড় জালিয়াতি কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে করা সম্ভব নয়।

এর সঙ্গে আরও অনেকের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বিধায় বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। এদিকে সৈয়দপুর শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান এই ঘটনার জন্য আইটি বিভাগের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে অর্থ সরানোর বিষয়টি কেন তার নজরে আসেনি, এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর তিনি দেননি। অভিযুক্ত আলিমুল আল রাজি তমালের গ্রামের বাড়ি নীলফামারী সদরের কাঞ্চনপাড়ায় হলেও তিনি পরিবার নিয়ে রংপুরের রহমতপুরে বসবাস করতেন। প্রতিবেশীদের ভাষ্যমতে, চলতি বছরের শুরুতেই তিনি সপরিবারে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

তার বড় ভাই তুহিন সালেহীনের তথ্য অনুযায়ী, তমাল বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। তবে ব্যাংক কেলেঙ্কারির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন। সার্বিক বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের রংপুর বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস জানান, প্রশাসনিক নানা কাজের চাপে সবসময় প্রতিটি বিষয় কম্পিউটারে নজরদারি করা সম্ভব হয় না। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সৈয়দপুর শাখার ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমালকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে।

এস এম/ ১১ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language