ইসলাম

রমজানে ইতিকাফ পালনের গুরুত্ব ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

গাজীপুর, ৮ মার্চ – ইসলাম মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য যেসব ইবাদতের ব্যবস্থা রেখেছে ইতিকাফ তার মধ্যে অন্যতম। ইতিকাফ মানে হলো নিজেকে সাময়িকভাবে দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে বিচ্ছিন্ন করে একান্তভাবে আল্লাহ তাআলার ইবাদত, স্মরণ ও নৈকট্য লাভের জন্য মসজিদে অবস্থান করা। মাহে রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া। ইতিকাফ একটি আরবি শব্দ যার অর্থ আবদ্ধ থাকা বা নিজেকে নিবিষ্ট রাখা। শরিয়তের পরিভাষায় নির্দিষ্ট নিয়তে আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলা হয়।

এই ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করা এবং আত্মশুদ্ধি অর্জন করা। পবিত্র কোরআন মজিদে ইতিকাফের সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। সুরা বাকারায় আল্লাহ তাআলা ইতিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সঙ্গে মেলামেশা নিষিদ্ধ করেছেন যা এই ইবাদতের গাম্ভীর্য প্রমাণ করে। অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা হজরত ইবরাহিম ও ইসমাঈল (আ.)-কে তাঁর ঘর তাওয়াফকারী ও ইতিকাফকারীদের জন্য পবিত্র রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও নিয়মিত ইতিকাফ করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে এ ব্যাপারে উৎসাহ দিতেন। হাদিস অনুযায়ী নবীজি (সা.) ইন্তেকাল পর্যন্ত রমজানের শেষ দশকে নিয়মিত ইতিকাফ পালন করেছেন।

রমজানের শেষ দশকের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো লাইলাতুল কদর যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। ইতিকাফকারী ব্যক্তি পুরো শেষ দশক মসজিদে অবস্থানের ফলে এই মহিমান্বিত রাত লাভের সর্বোত্তম সুযোগ পান। ইতিকাফের মাধ্যমে মানুষ দুনিয়ার কোলাহল থেকে দূরে সরে নিজের অন্তরের দিকে মনোযোগ দিতে পারে। এটি মানুষের মধ্যে ধৈর্য, সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণের গুণ তৈরি করে। ইতিকাফ শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয় বরং এর সামাজিক গুরুত্বও রয়েছে। মসজিদকেন্দ্রিক জীবন মানুষকে দ্বিনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে এবং সমাজে তাকওয়াবান মানুষ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ইতিকাফ অবস্থায় অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের এই অনন্য সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রত্যেকের উচিত জীবনকে আখিরাতমুখী করে গড়ে তোলা।

এস এম/ ৮ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language