যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ভাণ্ডারে টান ও ট্রাম্পের জরুরি বৈঠক

ওয়াশিংটন, ৬ মার্চ – বিশ্বের অন্যতম পরাক্রমশালী সামরিক বাহিনী হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ভাণ্ডার নিয়ে নতুন করে বিশ্লেষণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। মার্কিন বাহিনী সাধারণত নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম এমন ব্যয়বহুল অস্ত্রের ওপর বেশি নির্ভরশীল। তবে এসব অস্ত্র সীমিত সংখ্যায় তৈরি করা হয় বলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে টান পড়ার আশঙ্কা থাকে। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে সামরিক অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ওয়াশিংটন এখন দূরপাল্লার এবং ব্যয়বহুল টমাহক ক্রুজ মিসাইল ব্যবহারের পর্যায় থেকে কিছুটা সরে এসেছে। এর পরিবর্তে মার্কিন বিমানবাহিনী এখন তুলনামূলক কম খরচের জেডিএএম বা বোমার মতো অস্ত্র ব্যবহারে মনোযোগ দিয়েছে যা লক্ষ্যবস্তুর ওপর সরাসরি নিক্ষেপ করা যায়। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ বা সিএসআইএসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন মেরিন কর্নেল মার্ক ক্যানসিয়ান এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়েছেন।
তাঁর মতে প্রাথমিক পর্যায়ে দূরপাল্লার হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র এখন তুলনামূলক সাশ্রয়ী বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করার কৌশল নিয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হতে পারে এবং যুদ্ধের মাত্রা ধীরে ধীরে কমে আসবে। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। মার্ক ক্যানসিয়ানের মতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রচুর জেডিএএম বোমা থাকলেও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে।
বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও তাদের আরব মিত্র দেশ এবং ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে এই চাহিদায় বাড়তি চাপ পড়েছে। প্রতিটি প্যাট্রিয়ট মিসাইলের দাম প্রায় ৪০ লাখ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্র বছরে মাত্র সাতশটির মতো উৎপাদন করতে পারে। সিএসআইএসের তথ্যানুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বর্তমানে প্রায় ১৬০০টি প্যাট্রিয়ট মিসাইল থাকতে পারে। প্যাট্রিয়টের সংখ্যা আরও কমে গেলে ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কোনো সংঘাত তৈরি হলে সমস্যা হতে পারে। অবশ্য মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরান তাদের অস্ত্রের মজুত শেষ করতে পারবে না।
এস এম/ ৬ মার্চ ২০২৬









