তিস্তা এখন মরা খাল সেচ সংকটে দিশাহারা উত্তরের কৃষক, কর্তৃপক্ষের তথ্যে বিভ্রান্তি

ভারত, ৩ মার্চ – উজানে ভারত থেকে একতরফা পানি প্রত্যাহারের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ‘জীবনরেখা’ খ্যাত তিস্তা নদী শুষ্ক মৌসুমে কার্যত মরা খালে রূপ নিয়েছে।
নদীতে পানির প্রবাহ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় দেশের বৃহত্তম তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্প বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। পর্যাপ্ত পানির অভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বা পাউবো সেচের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে, যার ফলে নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার লাখো কৃষক তাদের প্রাপ্য সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে বর্ষা মৌসুমে তিস্তায় গড়ে প্রায় দুই লাখ কিউসেক পানি প্রবাহ থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে তা নেমে আসে গড়ে মাত্র দুই হাজার কিউসেকে এবং কখনো কখনো এই প্রবাহ ৫০০ কিউসেকেও নেমে যায়। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে খাল সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হলেও মূল নদীতে পানি না থাকায় অধিকাংশ সেচনালা কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে।
তিস্তা ব্যারাজ থেকে শুরু হয়ে প্রকল্পের ৭৬৬ কিলোমিটার খাল তিনটি জেলার ১২টি উপজেলায় বিস্তৃত এবং ২০২১ সালে শুরু হওয়া একটি প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ৪৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে খাল সম্প্রসারণের কাজ চলছে। পাউবো দাবি করেছে যে প্রকল্পের কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। ক্যানেল নির্মাণ শেষ হলেও অনেক স্থানে তিস্তার পানি পৌঁছায়নি ফলে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কৃষক বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল বিকল্প সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
নীলফামারীর কৃষকরা জানান ক্যানেল পাশেই থাকা সত্ত্বেও পানি না থাকায় তাদের বৈদ্যুতিক ও ডিজেলচালিত মেশিন ব্যবহার করতে হচ্ছে যাতে উৎপাদন খরচ বিঘাপ্রতি ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা বেড়ে গেছে। কৃষক জাকারিয়া সরকার ও নুরুজ্জামান ইসলামের মতে ভাঙা ক্যানেল ঠিক করা হলেও পানি সরবরাহ নেই এবং কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতির পরেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে মাঠের এই সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেই খোদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুই কর্মকর্তার তথ্যে বড় ধরনের বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।
নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান দাবি করেছেন জেলায় সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ১০ হাজার কিউসেক পানি পর্যাপ্ত আছে এবং চাহিদামতো পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন ভিন্ন তথ্য।
তাঁর মতে তিস্তা ব্যারাজের উজানে ৭০০ থেকে ২৫০০ কিউসেক পানি পাওয়া গেলেও ব্যারাজের ভাটিতে প্রায় ১১০ কিলোমিটার এলাকায় ১০০ কিউসেক পানিও নেই।
নথিপত্র অনুযায়ী ১৯৯০ সালে সেচের লক্ষ্যমাত্রা ৮৪ হাজার ৩৭৮ হেক্টর থাকলেও তিন দশকে তা অর্জন করা সম্ভব হয়নি এবং চলতি মৌসুমে ৫৭ হাজার হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বর্তমান পানিপ্রবাহে এর অর্ধেক অর্জন করাও কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এম ম/ ৩ মার্চ ২০২৬









