মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি: কাতার ও সৌদিতে উৎপাদন স্থগিত, বাংলাদেশের শঙ্কা

ওয়াশিংটন, ৩ মার্চ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার প্রতিউত্তরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এই সংঘাতের তীব্রতায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গ্যাস রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি তাদের উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্যাস স্থাপনাগুলোতে সামরিক হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর ফলে বিশ্ববাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালীর কাছে অন্তত তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড এর দাম ব্যারেল প্রতি সাময়িকভাবে ৮২ ডলার স্পর্শ করেছে। ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যে পথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। এই জলপথ বন্ধ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চরম সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সোমবার লেনদেনের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ারবাজার সূচকগুলো নিম্নমুখী থাকলেও পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। তবে লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক ১.২ শতাংশ পতনের মুখে পড়ে, যেখানে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এবং বড় ব্যাংকগুলোর শেয়ারের দাম কমেছে। ফ্রান্স ও জার্মানির শেয়ারবাজারেও বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের একটি ড্রোন রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির একটি স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এছাড়া দোহার মেসাইদ এলাকায় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিবেশী সৌদি আরবের রাস তানুরা তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর আরামকো তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে।

যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানিয়েছে, একাধিক জাহাজে হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে। এদিকে ওপেক প্লাস তেলের উৎপাদন সামান্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও তা বাজারের অস্থিরতা কমাতে যথেষ্ট হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম শিপিং গ্রুপ মায়েরস্ক সুয়েজ খালের পরিবর্তে আফ্রিকা ঘুরে জাহাজ চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পরিবহন খরচ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের জ্বালানি খাতেও এই সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। দেশের মোট আমদানিকৃত এলএনজির একটি বড় অংশ কাতার থেকে আসে। কাতারের উৎপাদন ব্যাহত হলে বাংলাদেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং বিকল্প উৎসের সন্ধান করা হচ্ছে।

এস এম/ ৩ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language