খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা কে হচ্ছেন? আলোচনায় ৫ জনের নাম

তেহরান, ১ মার্চ – যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশটিতে তার ৪০ বছরের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটেছে। তার এই আকস্মিক মৃত্যুর পর ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হবেন তা নিয়ে দেশজুড়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে মূলত পাঁচজনের নাম জোরালোভাবে উঠে এসেছে। তালিকায় প্রথমে রয়েছেন ৫৬ বছর বয়সি মোজতাবা খামেনি। তিনি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় পুত্র।
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস ও বাসিজ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর ওপর তার গভীর প্রভাব রয়েছে। তবে ইরানের শিয়া শাসনব্যবস্থায় উত্তরাধিকার সূত্রে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রচলন কম থাকায় এটি তার জন্য একটি বড় বাধা হতে পারে। এছাড়া উচ্চ পর্যায়ের ইসলামি পণ্ডিত হিসেবে তার পরিচিতি নেই এবং প্রশাসনিক কোনো আনুষ্ঠানিক পদেও তিনি নেই। দ্বিতীয় সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন ৬৭ বছর বয়সি আলীরেজা আরাফি।
খামেনির অত্যন্ত আস্থাভাজন এই ব্যক্তি একজন প্রতিষ্ঠিত ইসলামি পণ্ডিত। তিনি বর্তমানে ইরানের আলেম পরিষদের উপচেয়ারম্যান এবং ক্ষমতাশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই করে থাকে। তবে রাজনৈতিক ময়দানে তিনি খুব একটা পরিচিত নন এবং সামরিক বাহিনীর সঙ্গেও তার তেমন ঘনিষ্ঠতা নেই। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ৬০ বছর বয়সি কট্টরপন্থি ইসলামি আলেম মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি। তিনি ইরানের রক্ষণশীল আলেমদের অন্যতম নেতা এবং কেন্দ্রীয় আলেম পরিষদের সদস্য।
পশ্চিমা বিরোধী কঠোর মনোভাবের জন্য তিনি পরিচিত। তিনি বর্তমানে কোম শহরের বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চতুর্থ প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ৫০ বছর বয়সি হাসান খোমেনি। তিনি ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি। বর্তমানে তিনি তার দাদার সমাধিসৌধের প্রধান রক্ষক। তবে সামরিক বা প্রশাসনিক পর্যায়ে তার তেমন কোনো জোরালো প্রভাব নেই। পঞ্চম ব্যক্তিটি হলেন ষাটোর্ধ্ব হাশেম হোসেইনি বুশেহরি। তিনি ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ ইসলামি পণ্ডিত এবং আলেম পরিষদের এক নম্বর উপচেয়ারম্যান। খামেনির সঙ্গে তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা তুলনামূলকভাবে কম।
এসএএস/ ১ মার্চ ২০২৬









