দক্ষিণ এশিয়া

গাজায় সেনা পাঠাতে প্রস্তুত ইন্দোনেশিয়া, মার্কিন পরিকল্পনার অধীনে মোতায়েন নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

ইন্দোনেশিয়া, ২৭ ফেব্রুয়ারি – ইন্দোনেশিয়া আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গাজায় সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গঠিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী বা আইএসএফের অধীনে এই সেনারা কাজ করবে।

জাকার্তা ইতিমধ্যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সব মিলিয়ে প্রায় আট হাজার সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডনি প্রামোনো সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে প্রথম ধাপে এক হাজার সেনা আগামী এপ্রিলের মধ্যে গাজায় পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং জুনের মধ্যে মূল বাহিনী বা বেশিরভাগ সেনা মোতায়েন সম্পন্ন হবে। তবে দ্রুত সেনা পাঠানোর এই সিদ্ধান্তে দেশটির অভ্যন্তরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

অনেক নাগরিক এবং বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন যে যেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন ও গণহত্যা চলছে, সেখানে ইন্দোনেশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী আসলে কার স্বার্থ রক্ষা করবে বা এই মিশনে তাদের ভূমিকা কী হবে। যদিও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সুনাম রয়েছে, তবুও সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন যে এই সেনাদের গাজায় ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। এ বিষয়ে ইন্দোনেশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শোফওয়ান আল বান্না চোইরুজ্জাদ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তাঁর মতে ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়াকে কেবল একটি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন যে ফিলিস্তিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও সক্রিয় অংশীদার হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার যে সুনাম রয়েছে তা ক্ষুণ্ন হতে পারে যদি তাদের সেনাদের দখলদারিত্ব বজায় রাখতে বা ইসরায়েলের সুবিধার্থে ব্যবহার করা হয়।

শোফওয়ান আরও উল্লেখ করেন যে ইন্দোনেশিয়া সম্ভবত কেবল আন্তর্জাতিক চাপ সামলানোর ভূমিকা পালন করবে যা পরোক্ষভাবে ইসরায়েলের দখলের বৈধতা দেখাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থনের কারণে ইসরায়েলের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে জাকার্তাকে স্পষ্ট করতে হবে যে তারা ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘর্ষপূর্ণ বা ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবস্থান করবে না। কারণ এতে ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করার প্রয়োজন হতে পারে যাকে ইসরায়েলের স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য করার সুযোগ থাকে।

এম ম/ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language