চট্টগ্রাম

সন্দ্বীপ চ্যানেল থেকে সীট্রাক প্রত্যাহার ঈদে ভোগান্তির শঙ্কায় যাত্রীরা

চট্টগ্রাম, ২৬ ফেব্রুয়ারি – চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ চ্যানেল থেকে চালুর মাত্র আড়াই মাসের মাথায় ‘এসটি নিঝুম দ্বীপ’ নামের সীট্রাকটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার আকস্মিকভাবে সীট্রাকটি সরিয়ে নেওয়ায় এই রুটের যাত্রীদের মধ্যে চরম ভোগান্তি ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সামনে পবিত্র ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পেলে এই দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জানা গেছে যে বুধবার সীট্রাকটি কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও মহেশখালী রুটে যুক্ত হতে সন্দ্বীপ চ্যানেল ত্যাগ করে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশন বা বিআইডব্লিউটিসি এর মহাব্যবস্থাপক গোপাল চন্দ্র মজুমদার জানিয়েছেন যে সার্ভিস শুরুর পর থেকে যাত্রীসংখ্যা কম থাকায় সীট্রাকটি লোকসানে চলছিল এবং তাই এটি প্রত্যাহার করে পূর্বের ‘এমভি মালঞ্চ’ পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে যাত্রীদের অভিযোগ হলো অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে ‘এমভি মালঞ্চ’ জাহাজে ওঠানামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই ঝুঁকি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। ২০১৭ সালের ২ এপ্রিল অনুরূপ একটি জাহাজে ওঠানামার সময় দুর্ঘটনায় ১৮ জন যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনাও স্মরণ করেন অনেকে। সন্দ্বীপবাসীর যাতায়াত সুবিধার্থে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এই সীট্রাকটি গত বছরের ১০ ডিসেম্বর বাঁশবাড়িয়া থেকে গুপ্তছড়া রুটে চলাচল শুরু করেছিল।

যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানের উদ্যোগে সন্দ্বীপ চ্যানেলের উপযোগী করে সীট্রাকটি নির্মাণ করা হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানান। চালুর পর যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এলেও সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যাত্রী আমিনুল হক জানান যে বর্ষা মৌসুমে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য সীট্রাক অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত যাত্রীরা তুলনামূলকভাবে সীট্রাকেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বশীরুল হক আক্ষেপ করে বলেন যখন যাত্রীসংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা ছিল ঠিক তখনই লোকসানের অজুহাতে সীট্রাকটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় সন্দ্বীপ চ্যানেলের স্রোতের পরিবর্তন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।

নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন নৌ যোগাযোগ নিশ্চিতের স্বার্থে সীট্রাকটি পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। দাবি আদায় না হলে যাত্রী ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ এম/ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language