এশিয়া

শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে তবে মানতে হবে ‘রেড লাইন’ ইরান সরকার

ইরান, ২৪ ফেব্রুয়ারি – ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দানা বাঁধার পর এ বিষয়ে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশটির সরকার। মঙ্গলবার ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি মন্তব্য করেছেন যে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে, তবে তাদের অবশ্যই ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। সপ্তাহান্তে নতুন সেমিস্টার শুরুর পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমাবেশের মাধ্যমে বিক্ষোভ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এর আগে জানুয়ারি মাসে দেশব্যাপী যে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল, তার রেশ ধরেই শিক্ষার্থীরা আবারও সরব হয়েছে।

টানা তৃতীয় দিনের মতো চলা এই ক্যাম্পাস বিক্ষোভে সোমবার তেহরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে গৃহীত ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতাকা পোড়াতে দেখা গেছে। এ প্রসঙ্গে সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেন, পবিত্র বিষয় এবং জাতীয় পতাকা আমাদের রক্ষা করতে হবে কারণ এগুলো রেড লাইনের অন্তর্ভুক্ত। তীব্র ক্ষোভের মুহূর্তেও এই সীমারেখা অতিক্রম বা লঙ্ঘন করা উচিত নয়। তিনি আরও যোগ করেন যে শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা এমন অনেক দৃশ্য দেখেছে যা তাদের ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে, যা সরকারের পক্ষে বোধগম্য।

গত ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে দেশটিতে প্রাথমিক বিক্ষোভ শুরু হলেও তা দ্রুত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। জানুয়ারির ৮ ও ৯ তারিখে এই আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের নেতৃত্বের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর দমন পীড়ন চালিয়েছে এবং এতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি বা এইচআরএএনএ সাত হাজারের বেশি মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করেছে এবং সতর্ক করেছে যে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা তিন হাজারের বেশি মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেও তাদের দাবি, এই সহিংসতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দ্বারা প্ররোচিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ফলাফল। বিক্ষোভ চলাকালীন সরকার আন্দোলনকারীদের অর্থনৈতিক ক্ষোভের বৈধতা স্বীকার করার চেষ্টা করলেও তথাকথিত দাঙ্গাবাজদের কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, একটি তথ্যানুসন্ধানী মিশন বর্তমানে বিক্ষোভের কারণ ও উপাদানগুলো তদন্ত করছে এবং শিগগিরই তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে।

এ এম/ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language