জাতীয়

রমজানের এক সপ্তাহেই কমতে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের দাম, কিছুটা স্বস্তি

ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি – রমজানের শুরুতে বাজারে নিত্যপণ্যসহ সবজি ও মাছ-মাংসের দামে যে অস্থিরতা দেখা গিয়েছিল, এক সপ্তাহ পার হতেই তা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। রাজধানীর ইসিবি চত্বর, মিরপুর, মানিকদী ও বালুঘাটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লেবুসহ বেশ কিছু সবজির দাম কিছুটা কমেছে। ব্রয়লার মুরগির দাম রোজার শুরুতে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকায় নেমে এসেছে। এছাড়া গরুর মাংসের দামও কেজিতে প্রায় ৩০ টাকা কমেছে।

বাজারে বর্তমানে লেবু আকার ও মানভেদে হালিপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবজির মধ্যে লাউ ৬০ টাকা, ফুলকপি ৫০, বাঁধাকপি ৪০, গোল বেগুন ১০০, লম্বা বেগুন ১২০ এবং চিচিঙ্গা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া টমেটো ৬০ থেকে ৮০, আলু ২৫, শসা ৮০, কাঁচামরিচ ১৬০, মুলা ৫০, পেঁপে ৪০, কচুর ছড়া ৮০, শিম ৪০ থেকে ৬০, মিষ্টিকুমড়া ৫০, ঢেঁড়স ১৬০, লতি ১২০, বরবটি ১২০ এবং গাজর ৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। জালি কুমড়া প্রতিটি ৫০ টাকা এবং করলা ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ ৫০ টাকা, ছোট রসুন ১০০ এবং বড় রসুন ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোলা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজিতে।

মানিকদী বাজারের সবজি বিক্রেতা রুবেল জানান, দাম এখন ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে, তবে এই নিম্নমুখী প্রবণতা কতদিন বজায় থাকবে তা নিশ্চিত নয়। বাজার করতে আসা ক্রেতা রবিউল জানান, ফুলকপি ও বাঁধাকপির মতো কিছু সবজির দাম কমলেও বরবটি, ঢেঁড়স ও বেগুনের দাম এখনও সাধারণের নাগালের বাইরে। অন্যদিকে ডিমের বাজারে পাইকারি দাম ১০০ পিসে ৭৮০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ডজনপ্রতি ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম বিক্রেতা মোশারফ জানান, রোজার শুরুতে ৮৪০ টাকায় বিক্রি করলেও এখন ৭৮০ টাকায় পাইকারি বিক্রি করছেন এবং এর চেয়ে কমার সম্ভাবনা কম।

মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৭০ টাকা, পাকিস্তানি হাইব্রিড ২৭০ এবং দেশি জাতের পাকিস্তানি মুরগি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মুরগি বিক্রেতা আব্দুল্লাহর মতে, দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে, তবে ঈদের সময় পুনরায় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা কেজি দরে, যা রোজার শুরুর তুলনায় কিছুটা কম। মাছের বাজারে ছোট তেলাপিয়া ১৯০ ও বড় তেলাপিয়া ২৪০ টাকা, রুই ৩৬০ থেকে ৩৮০, পাঙাশ ২২০, কই ২৫০ এবং টাকি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে, তবে ক্রেতারা পুরো রমজানজুড়েই এই স্বস্তি প্রত্যাশা করছেন।

এস এম/ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language