স্বাস্থ্যসেবায় গুণগত পরিবর্তন ও চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি – গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও ডায়াগনস্টিক সেবার মানোন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব দ্রুতই দেশের মানুষ স্বাস্থ্যখাতে গুণগত পরিবর্তন দেখতে পাবেন।
এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী জানান, সেবার পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়নেও কাজ চলছে। সরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সূত্র ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্যগুলোর এখনো সংবিধি প্রণয়ন হয়নি। বিশেষ করে খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংকট চিহ্নিত করে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষার মান ও ব্যয় নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ভর্তির খরচ যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে শিক্ষার পরিবেশ ও সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যা দেশের ভাবমূর্তি ও রাজস্ব বাড়াতে সহায়ক হবে।
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসকদের পদায়ন, অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে প্রয়োজনে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করা হবে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এখন থেকে বিনা কারণে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না এবং তিনি নিজেও হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, নারী স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও মাতৃমৃত্যু কমাতে ধাত্রী এবং প্রায় এক লাখ নার্স নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া অনিবন্ধিত হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ওষুধের দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্য প্রশাসন গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে মিল রেখে এই কর্মপরিকল্পনা সাজানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এনএন/ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









