যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের রায় ও বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট

ওয়াশিংটন, ২৩ ফেব্রুয়ারি – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বৈশ্বিক শুল্কনীতিকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া এই রায়ে উল্লেখ করা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শুল্ক আরোপ করে ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ৬-৩ ভোটে এই রায় প্রদান করেন।
রায়ে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট এমন এক অসাধারণ ক্ষমতার দাবি করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য শুল্ক আরোপ করতে পারেন, যা সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। এই রায়কে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় পরাজয় এবং গণতন্ত্রে আইনের শাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ভারতের সুপ্রিম কোর্টও বিভিন্ন সময়ে সরকারের সিদ্ধান্ত নাকচ করে নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ফোনে আড়ি পাতা বা বিনা বিচারে সম্পত্তি ধ্বংসের মতো বিষয়ে ভারতের আদালত সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে সংবিধান ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার সুরক্ষিত করেছে।
বৈশ্বিক এই প্রেক্ষাপটের বিপরীতে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের দলীয় শাসনে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে অন্যায়ের বৈধতা দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রত্যাশা তৈরি হলেও, পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও বিচার প্রক্রিয়ায় ভীতি ও স্থবিরতা লক্ষ্য করা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ মন্তব্য করেছেন যে, আতঙ্কের কারণে বিচারকরা অনেক ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে আদেশ দিতে কুণ্ঠিত বোধ করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ এবং হয়রানি করা হয়েছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিকের মতে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর কাঠামোর প্রয়োজন। মাসদার হোসেন মামলার নির্দেশনা বা পৃথক সচিবালয় গঠন করলেই হবে না, সরকারের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা জরুরি। এদিকে দেশের নির্বাচিত সরকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পথে থাকা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ৩১ দফার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। এই দফায় বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা, জুডিশিয়াল কমিশন গঠন এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনঃপ্রবর্তনের অঙ্গীকার করা হয়েছে। একটি নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিও জোরালো হচ্ছে, যা বিগত সময়ের হয়রানিমূলক মামলা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তদন্ত করবে এবং দেশে ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে।
এস এম/ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









