উত্তর আমেরিকা

ছবির পেছনের ইটের দেয়ালই ধরিয়ে দিল অপরাধীকে, উদ্ধার কিশোরী

ওয়াশিংটন, ২২ ফেব্রুয়ারি – ডার্ক ওয়েবের গহীন অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া এক কিশোরীকে উদ্ধার করতে শেষ পর্যন্ত ভরসা হতে হলো একটি ইটের দেয়ালের ওপর। নাম তার লুসি। পরিচয়হীন এই কিশোরীর ওপর চলা দীর্ঘ নির্যাতনের অবসান ঘটাতে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কর্মকর্তা গ্রেগ স্কয়ারের অদম্য প্রচেষ্টা সফল হয় একটি সাধারণ ইটের সূত্র ধরে।

ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়ে পড়া লুসির ছবিগুলোতে কোনো ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বা মেটাডেটা ছিল না, যা দিয়ে অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব। অপরাধীরা বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে সব তথ্য মুছে ফেলত, ফলে তাদের খুঁজে বের করা ছিল প্রায় অসম্ভব। তবে হাল ছাড়েননি গ্রেগ ও তার দল। ছবিগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণের সময় তারা ব্যাকগ্রাউন্ডের কিছু বিষয় খেয়াল করেন। প্রথমে বৈদ্যুতিক সকেট দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় লুসি উত্তর আমেরিকায় আছে।

এরপর ছবিতে দেখা যাওয়া একটি বিশেষ সোফার সূত্র ধরে তদন্তের পরিধি কিছুটা কমে আসে। কিন্তু তদন্তের সবচেয়ে বড় মোড় আসে যখন ছবির পেছনের ইটের দেয়ালটি নজরে আসে। ইটের ধরণ বুঝতে ব্রিক ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সহায়তা নেন গ্রেগ। বিশেষজ্ঞ জন হার্প ছবির ইটের রং, আকার ও গঠন দেখে সেটিকে ‘ফ্লেমিং আলামো’ হিসেবে শনাক্ত করেন। তিনি জানান, এই বিশেষ ইটগুলো ভারী হওয়ায় উৎপাদনের স্থান থেকে খুব বেশি দূরে সরবরাহ করা হতো না। জন হার্পের এই তথ্য তদন্তের জট খুলে দেয়।

সোফা ক্রেতাদের তালিকার সঙ্গে ইটের ভাটার ১০০ মাইলের মধ্যে থাকা সম্ভাব্য গ্রাহকদের মিলিয়ে তালিকাটি ৪০ থেকে ৫০ জনে নামিয়ে আনা হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসন্ধান চালিয়ে লুসির একটি ছবি ও তার আত্মীয়র খোঁজ মেলে। শেষ পর্যন্ত ঠিকানা নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। গ্রেপ্তার করা হয় লুসির মায়ের প্রেমিককে, যে কিনা একজন তালিকাভুক্ত যৌন অপরাধী। দীর্ঘ ছয় বছর নির্যাতনের শাস্তি হিসেবে তাকে ৭০ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সম্প্রতি গ্রেগ স্কয়ারের সঙ্গে দেখা করেছেন তরুণী লুসি, যিনি এখন দুঃসহ স্মৃতি কাটিয়ে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছেন।

এস এম/ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language