রাজবাড়ীতে দুই দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কমে অর্ধেক, হতাশ চাষিরা

রাজবাড়ী, ১৯ ফেব্রুয়ারি – পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে থাকা রাজবাড়ী জেলায় হঠাৎ করেই ব্যাপক দরপতন ঘটেছে। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১৫ শতাংশ পেঁয়াজ জোগান দেওয়া এই জেলায় মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে পণ্যটির দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। বৃহস্পতিবার রাজবাড়ী সদর ও বালিয়াকান্দি উপজেলার বিভিন্ন হাটে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়, যা মাত্র দুদিন আগেও ছিল ২ হাজার টাকা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে রাজবাড়ীতে ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে ৩৪ হাজার হেক্টরই হালি পেঁয়াজ। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ মেট্রিক টন। তবে ভরা মৌসুমে এমন দরপতনে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলার পেঁয়াজচাষী মো. রফিকুল ইসলাম মোল্লা জানান, মুড়িকাটা পেঁয়াজের পর বাজারে এখন হালি পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। গত মঙ্গলবারও মাশালিয়া হাটে প্রতি মণ পেঁয়াজ ২ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও বৃহস্পতিবার তা ১ হাজার ১০০ টাকায় নেমে এসেছে। সদর উপজেলার কৃষক হামিদ ব্যাপারীর অভিযোগ, ঢাকা থেকে নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেটের কারণেই বাজারে এই অস্থিরতা। উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম কম পাওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। অনেক কৃষক দাম না পেয়ে পেঁয়াজ বিক্রি না করেই ফিরে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে মাশালিয়া বাজারের ব্যবসায়ী শেখর দাস জানান, তারা কৃষকদের কাছ থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় পেঁয়াজ কিনছেন। তবে পরিবহন খরচের কারণে খুচরা বাজারে এর প্রভাব কম। এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. শাহিদুল ইসলাম বলেন, মৌসুমের শুরুতে দাম কিছুটা কম থাকে, তবে তা ২ হাজার টাকার নিচে নামলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ অবস্থায় কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছেন তিনি।
এস এম/ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









