ডোপ টেস্ট পজিটিভ হলে সরকারি চাকরিতে অযোগ্যতা, চাকরিজীবীদের জন্য অসদাচরণ

ঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারি – মাদকাসক্তি নিশ্চিত করতে ডোপ টেস্টের ফলাফল পজিটিভ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সরকারি, আধা-সরকারি, স্থানীয় সরকার ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এছাড়া চাকরিতে থাকাকালীন ডোপ টেস্টে পজিটিভ হলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে।
মাদকাসক্ত হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর যথাযথ নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা না নেওয়াও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত সোমবার এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে যেখানে জৈব নমুনায় মাদকদ্রব্য শনাক্তকরণ বা ডোপ টেস্ট বিধিমালা ২০২৬ এর বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। উপসচিব মাহবুব আলম স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে ডোপ টেস্ট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের টেকনিক্যাল কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এই কমিটির সভাপতিত্ব করবেন। কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সিআইডি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল মেডিসিন সেন্টার এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধিরা সদস্য হিসেবে থাকবেন।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া কর্মরত কারও আচরণে মাদক গ্রহণের সন্দেহ দেখা দিলে কর্তৃপক্ষ তাকে পরীক্ষার নির্দেশ দিতে পারবে। যানবাহনের চালকদের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স এবং বিদেশে গমনে ইচ্ছুক কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই পরীক্ষা প্রযোজ্য হবে। এমনকি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ উঠলে তাদেরও ডোপ টেস্টের আওতায় আনা হবে।
পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যার নমুনা নেওয়া হবে তাকে নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত থাকতে হবে এবং তার ছবি ও আঙুলের ছাপ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করতে হবে। নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানোর সময় গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে এবং মোড়কে ব্যক্তির নাম বা পরিচয়ের বদলে সাংকেতিক কোড ব্যবহার করতে হবে। ল্যাবরেটরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও প্রবেশাধিকারে কড়াকড়ি আরোপের কথা বলা হয়েছে। ডেটাবেজ সুরক্ষায় বিকল্প ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো কারণে তথ্য হারিয়ে না যায়। বিধিমালাটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে জারি হলেও এর আগে থেকেই মেট্রো রেল, এনএসআই ও বিসিএসসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে ডোপ টেস্টের প্রচলন ছিল।
এস এম/ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









