বাংলাদেশ

বিশ্ববাজারে উৎসবে মূল্যছাড়ের রেওয়াজ থাকলেও বাংলাদেশে কেন উল্টো চিত্র

বাংলাদেশ, ১৮ ফেব্রুয়ারি – ধর্মীয় উৎসব কেবল আধ্যাত্মিক অনুশীলন বা পারিবারিক মিলন নয় বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বাজার অর্থনীতির এক বিশেষ ঋতু। পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে এবং বড়দিন খ্রিস্টান প্রধান দেশগুলোতে উদযাপনের সময় খুচরা বাজারে বিশেষ ছাড় ও প্রচারণার ঢেউ দেখা যায়।

তবে বিশ্ববাজারে উৎসব মানে মূল্যহ্রাস হলেও বাংলাদেশে প্রায়শই এর উল্টো চিত্র পরিলক্ষিত হয়। এই পরিস্থিতির কারণ খুঁজতে গেলে বৈশ্বিক চর্চা এবং বাংলাদেশের বাজার বাস্তবতার মধ্যে বিস্তর ফারাক নজরে আসে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে কেয়ারফোর বা লুলু হাইপার মার্কেটের মতো বড় খুচরা চেইনগুলো রমজান উপলক্ষে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে বিশেষ ছাড় ঘোষণা করে।

সৌদি আরবের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রমজানের আগে বাজার তদারকি জোরদার করে এবং প্রয়োজনে আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেয়। ফলে সেখানে রমজান মানে শুধু বাড়তি বিক্রি নয় বরং প্রতিযোগিতামূলক মূল্যের উৎসব। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে বড়দিনের আগে ওয়ালমার্ট বা আমাজনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিশাল ছাড়ের আয়োজন করে। উৎসবের সময় ভোক্তার চাহিদা বাড়লে ব্যবসায়ীরা মূল্য কমিয়ে বিক্রির পরিমাণ বাড়াতে চান যা অর্থনীতির ভাষায় কম মার্জিনে বেশি ভলিউম বিক্রি হিসেবে পরিচিত।

তীব্র প্রতিযোগিতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সক্রিয় ভূমিকা সেখানে মূল্যছাড়ের সংস্কৃতি তৈরি করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে রমজান আসার আগেই বাজারে এক অস্থিরতা তৈরি হয় এবং চাল, ডাল, তেল, চিনির মতো পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করে। সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সিন্ডিকেট বা মজুতদারির কারণে উৎসব নির্ভর মূল্য সংকট তৈরি হয়। আমদানিনির্ভর পণ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবের পাশাপাশি স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণকে দায়ী করা হয়।

যদিও সরকারিভাবে টিসিবির মাধ্যমে পণ্য বিক্রি বা শুল্ক কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয় তবে তা অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত হয় না। বাজার বিশ্লেষকদের মতে প্রতিদিনের পাইকারি ও খুচরা দামের ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড প্রকাশ এবং কার্টেল বা সমন্বিত মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। উৎসবের প্রকৃত আনন্দ নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফেরাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ন্যায্য বাজার সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ এম/ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language