রমজানে বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার নেপথ্যে প্রধান তিন কারণ

ঢাকা, ১৮ ফেব্রুয়ারি – পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ প্রতি বছরই দেখা যায়। তবে এটি এমন কোনো সমস্যা নয় যার সমাধান অসম্ভব। মূল প্রশ্ন হলো প্রস্তুতি, স্বচ্ছতা ও বাস্তবায়নের দৃঢ়তা কতটুকু নিশ্চিত করা যাচ্ছে তার ওপর। কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) দৃষ্টিতে রমজানের বাজারে অস্থিরতার মূল কারণ তিনটি।
এগুলো হলো অপরিকল্পিত আমদানি, দুর্বল তদারকি ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম সংকটের সংস্কৃতি। প্রতিবছর রোজার আগেই সম্ভাব্য ঘাটতির অজুহাতে কিছু ব্যবসায়ী পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন এবং ভোক্তারাও আতঙ্কে অতিরিক্ত পণ্য কিনতে শুরু করেন। এর ফলে বাজারে বাস্তব সংকট না থাকলেও বাড়তি চাপ তৈরি হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রমজানের অন্তত দুই থেকে তিন মাস আগেই ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুরের মতো পণ্যের আমদানি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা জরুরি। আমদানি প্রক্রিয়ায় কোনো অপ্রয়োজনীয় জটিলতা থাকলে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে।
একই সঙ্গে দেশে কত মজুদ আছে এবং কত পণ্য আসছে সে বিষয়ে সরকারকে নিয়মিত তথ্য জানাতে হবে। তথ্যের স্বচ্ছতা থাকলে গুজবের সুযোগ কমে আসে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেবল মৌসুমি অভিযান যথেষ্ট নয়। পাইকারি থেকে খুচরা সব স্তরে নিয়মিত নজরদারি বজায় রাখা প্রয়োজন। জরিমানা সামান্য হলে অসাধু ব্যবসায়ীরা তা খরচ হিসেবেই ধরে নেন। তাই পুনরাবৃত্ত অপরাধে লাইসেন্স স্থগিত বা বড় অঙ্কের জরিমানার মতো দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। বাজারে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব কমাতে কার্যকর প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
ব্যবসায়ীদের মনে রাখা উচিত যে রমজান সংযম ও সহমর্মিতার মাস, তাই এ সময় অতিরিক্ত মুনাফা না করে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করাই সামাজিক দায়িত্ব। পাশাপাশি ভোক্তাদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত মজুদ না করে ধাপে ধাপে কেনাকাটা করলে বাজারে অস্বাভাবিক চাপ কমবে। রমজানের বাজার নিয়ন্ত্রণ কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়, বরং সরকার, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা এই তিন পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগেই স্থিতিশীল বাজার নিশ্চিত করা সম্ভব।
এস এম/ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









