জাতীয়

শহিদ মিনারে বসুন্ধরা শুভসংঘের মুক্ত আলোচনা বাংলা ভাষার মর্যাদা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ, ১৭ ফেব্রুয়ারি – আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সম্প্রতি বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে একটি বিশেষ মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ভিনদেশি ভাষার ভিড়ে বাংলাই হোক আমাদের গর্বের হাতিয়ার প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আয়োজিত এই সভায় তরুণ শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা সভায় ভাষা আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, মহান ভাষা শহীদদের বীরত্ব ও অবদান, শুদ্ধ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চা এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলার অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আব্দুল মমিন তাঁর বক্তব্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরেন এবং ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি করাচি অধিবেশনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমেই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল যার চূড়ান্ত ফসল ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াদুস সালেহীন মাতৃভাষার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে জানান উন্নয়নের জন্য মাতৃভাষা কোনো বাধা নয় বরং শক্তি। জাপান, চীন, ফ্রান্স ও জার্মানির উদাহরণ টেনে তিনি বাংলাদেশেও শিক্ষা ও গবেষণায় বাংলার ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সহ সভাপতি প্রিয়া আক্তার বলেন রাষ্ট্রভাষা হলো সেই মাধ্যম যাতে নাগরিক তার অধিকার দাবি করতে পারে। যুগ্ম সম্পাদক মো. হানিফ আলী ভিনদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ না করে নিজস্ব সংস্কৃতি লালনের ওপর জোর দেন এবং কাজী নজরুল ইসলাম ও জসিমউদ্দীনসহ প্রখ্যাত সাহিত্যিকদের সৃষ্টির উদাহরণ দিয়ে বাংলার শক্তি তুলে ধরেন।

সহ সভাপতি শারমিন আক্তার বাংলাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মানসম্মত বাংলা কনটেন্ট তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় উপস্থিত বক্তারা ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং ১৪৪ ধারা ভঙ্গের ইতিহাস স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সভাপতি প্রমিত বাংলা উচ্চারণ ও নিয়মিত সাহিত্যচর্চার আহ্বান জানিয়ে এবং ভাষা বিকৃতির বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে কর্মসূচি গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন।

এ এম/ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language