আইজিপি বাহারুল আলমের পদত্যাগ গুঞ্জন: পুলিশ প্রধানের বক্তব্য ও নেপথ্যের ঘটনা

ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারি – পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম পদত্যাগ করেছেন বলে বিভিন্ন মহলে জোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই বিষয়ে আইজিপির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তিনি পদত্যাগের সংবাদটি সত্য নয় বলে নিশ্চিত করেছেন। রবিবার রাতে গণমাধ্যমকে তিনি স্পষ্ট জানান, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং বিষয়টি সঠিক নয়।
অবসরে যাওয়া বাহারুল আলমকে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর দুই বছরের চুক্তিতে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল সরকার। পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুদিন পর এবং বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের ঠিক আগ মুহূর্তে তার পদত্যাগের এই গুঞ্জন ডালপালা মেলতে শুরু করে। মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ৯ মাস আগেই তার সরে দাঁড়ানোর গুঞ্জন ওঠে।
যদিও আইজিপি গণমাধ্যমে পদত্যাগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, তবে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দাবি করেন, রবিবার সদর দপ্তরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে আইজিপি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। ওই কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, বৈঠকে আইজিপি বলেছেন যে তিনি আর দায়িত্বে থাকতে চাইছেন না এবং চলে যেতে চান। এছাড়া নির্বাচনের আগে গত জানুয়ারি মাসে আইজিপি তার সরকারি পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছিলেন বলেও জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন আত্মগোপনে চলে যান। পরদিন পুলিশ প্রধানের দায়িত্ব পান মো. ময়নুল ইসলাম। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার জেরে তিন মাসের মাথায় ময়নুল ইসলামকে সরিয়ে বাহারুল আলমকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়।
বাহারুল আলম ১৯৮৬ সালের ২১ জানুয়ারি বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দেন। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধানসহ পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত আইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এবং ২০১৫ সালে আফগানিস্তানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। ২০২০ সালে তিনি নিয়মিত চাকরি থেকে অবসরে গিয়েছিলেন।
এনএন/ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









