বরফের চাদরে মোড়ানো কানাডায় প্রবাসী বাঙালিদের বসন্ত বরণ ও বাঙালিয়ানা

কানাডা, ১৫ ফেব্রুয়ারি – ফেব্রুয়ারি মাস মানেই বসন্তের আগমনী বার্তা, বাতাসে ভালোবাসার টান আর আবেগের বহিঃপ্রকাশ। মনের কোণে জমে থাকা অব্যক্ত কথাগুলো প্রিয়জনকে জানানোর মোক্ষম সময় এটি। যান্ত্রিক ও ব্যস্ততাময় প্রবাস জীবনে ভালোবাসার মানুষকে মনের কথা বলা যতটা রোমাঞ্চকর, ঠিক ততটাই স্নায়ুচাপের বিষয়। ভিনদেশে অনেক সময় প্রিয়জনের সান্নিধ্য পাওয়াও কল্পনার অতীত হয়ে দাঁড়ায়।
বরফাচ্ছন্ন কানাডায় বছরের এই সময়ে প্রকৃতি ভিন্ন অবয়বে জেগে উঠতে শুরু করে। সেখানেও বিরাজ করে মিলন আর বিরহের এক অদ্ভুত দোলাচল। চারপাশের গাছপালা নতুন রূপে সাজতে শুরু করে। বহু সম্প্রদায়ের দেশ কানাডায় দিনটি অন্যদের কাছে গতানুগতিক মনে হলেও প্রবাসী বাঙালিদের কাছে এর গুরুত্ব অপরিসীম। তাদের কাছে এটি আবেগ, অনুভূতি আর উচ্ছ্বাসে ভরা এক মাধুর্যমণ্ডিত দিন।
কর্মময় একঘেয়ে জীবন থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে প্রবাসী বাঙালিরা এই দিনে সুর ও বাণীর মালায় একে অপরের সান্নিধ্যে আসেন। প্রবাসের মাটিতে বসেই তারা ফিরে যান ফেলে আসা সোনালি অতীতের স্মৃতিতে। বাঙালির জাতিসত্তার প্রকৃত পরিচয় ও বাঙালিয়ানাকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাখতে এবং আবহমান বাংলার কৃষ্টি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সেতুবন্ধন রচনার লক্ষ্যেই এই বসন্তের আয়োজন করা হয়। কানাডার বরফে ঢাকা প্রান্তরে গাঁদা, মালতী, চন্দ্রমল্লিকা, শিমুল, পলাশ কিংবা কৃষ্ণচূড়ার দেখা না মিললেও প্রবাসীদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কমতি থাকে না। সব কুসংস্কার আর বিভেদ ভুলে নতুন প্রত্যয়ে এগিয়ে যাওয়ার বার্তাই নিয়ে আসে এই বসন্ত। কোকিলের কুহুতান বা ঝরা পাতার শব্দ না থাকলেও প্রবাসী মনে ঠিকই দোলা দেয় নতুন প্রাণের কলরব।
এস এম/ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









