রংপুরে প্রার্থী হয়েও ভোট দিতে পারলেন না জি এম কাদের ও আখতার হোসেন

রংপুর, ১২ ফেব্রুয়ারি – সারা দেশে একযোগে চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের কার্যক্রম। দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে এই উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যেও রংপুরের দুটি আসনে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে যেখানে নিজ নিজ নির্বাচনী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও ভোট দিতে পারেননি দুই হেভিওয়েট প্রার্থী।
তারা হলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের এবারের নির্বাচনে রংপুর ৩ অর্থাৎ রংপুর সিটি করপোরেশন ও সদর আসনে লড়ছেন। অন্যদিকে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে রংপুর ৪ বা কাউনিয়া ও পীরগাছা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ও এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। ভোটের দিন তারা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় উপস্থিত থাকলেও নিজের ব্যালটে সিল মারার সুযোগ পাননি। নির্বাচনী হলফনামা এবং নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী এই দুই প্রার্থী ঢাকার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকায় রংপুরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে রাজধানীর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সেই হিসেবে তিনি উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের তালিকাভুক্ত ভোটার। অপরদিকে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনের স্থায়ী ঠিকানা রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের সদরা তালুক গ্রাম হলেও তার ভোটার এলাকা ঢাকায়। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে তিনি ঢাকার উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার। এ বিষয়ে আখতার হোসেন জানিয়েছেন যে ভোটার হওয়ার সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং সেই সময় বর্তমান ঠিকানা হিসেবে ঢাকার ঠিকানা ব্যবহার করেছিলেন। তিনি বলেন নিয়ম অনুযায়ী সেই ঠিকানার ভিত্তিতেই তার নাম ঢাকার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য তিনি একাধিকবার চেষ্টা করলেও নির্বাচন কমিশন থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি এবং ভোটার এলাকা পরিবর্তন না হওয়ার দায় তিনি কমিশনের ওপর চাপান।
নিজের নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী হয়েও ভোট দিতে না পারার এই ঘটনা ভোটার তালিকা ব্যবস্থাপনা ও ভোটার স্থানান্তর প্রক্রিয়ার জটিলতাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে রংপুর জেলায় এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ লাখ ৭৫ হাজার ৬৩৫ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩১ জন। জেলায় মোট ৮৭৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কর্মকর্তারা তৎপর রয়েছেন।
এ এম/ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









