ইন্টারনেট বন্ধ নিষিদ্ধ করে টেলিযোগাযোগ আইন সংশোধন করল সরকার

ঢাকা, ১১ ফেব্রুয়ারি – বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ সংশোধন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন এই অধ্যাদেশটি ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে। গত বৃহস্পতিবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, নতুন এই সংশোধনীতে ইন্টারনেট বন্ধ করার ক্ষমতা আইনি কাঠামো থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এটি আইনের একটি ঐতিহাসিক দিক। এর ফলে নাগরিকদের অধিকার, অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও ডিজিটাল অর্থনীতির ধারাবাহিকতা আইনি সুরক্ষা পেল। পূর্ববর্তী আইনে হেইট স্পিচ বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে সরাসরি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হলেও সংশোধিত আইনে তা পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।
এখন কেবল বক্তব্যের সঙ্গে সহিংসতা উসকে দেওয়ার সরাসরি সম্পর্ক থাকলেই তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সংশোধিত আইনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির ক্ষমতা প্রায় শতভাগ পুনর্বহাল করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা কমিয়ে লাইসেন্স, ট্যারিফ পরিবর্তন ও মনিটরিংয়ের ক্ষমতা বিটিআরসিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া টেলিকম খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে জরিমানার পরিমাণ এক-তৃতীয়াংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে গঠন করা হয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কোয়াসি-জুডিশিয়াল কমিটি। নজরদারি ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ‘ল-ফুল ইন্টারসেপশন’ কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে, যেখানে ইভেন্ট লগিং ও সময়সীমা নির্ধারণের মতো বিষয়গুলো যুক্ত করা হয়েছে। ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এই সংস্কারকে রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ক পুনর্গঠনের সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এস এম/ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









