জাতীয়

সরকারের মেয়াদের অনিশ্চয়তায় অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি: জ্বালানি উপদেষ্টা

বিদ্যুৎ ভবন, ১০ ফেব্রুয়ারি – সরকারের মেয়াদের অনিশ্চয়তা এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সংগ্রহ করতে না পারায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খান। মঙ্গলবার বিদ্যুৎ ভবনে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) আয়োজিত ‘এনার্জি ফর চেঞ্জ’ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

উপদেষ্টা জানান, অনেক চেষ্টা করেও তৃতীয় এফএসআরইউ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি, যার মূল কারণ সরকারের মেয়াদ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা। তিনি একটি অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনায় সৌদি যুবরাজ সালমানের ভাই প্রশ্ন তুলেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকাল নিয়ে। একই কারণে গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমও কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগিয়ে নেওয়া যায়নি। বিগত সরকারের সময়ে দরপত্র কেনা সত্ত্বেও কোম্পানিগুলো শেষ পর্যন্ত তা জমা দেয়নি।

ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ প্রকল্পের বিষয়ে ড. ফাওজুল কবির খান বলেন, এর অর্থায়ন জোগাড় করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও আরেকটি ব্যাংকের সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে তেল পরিশোধন সক্ষমতা বাড়বে। তিনি উল্লেখ করেন, এফএসআরইউ এবং অনশোর-অফশোর প্রকল্পের গ্রাউন্ড ওয়ার্ক প্রস্তুত রয়েছে, যা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।

জ্বালানি বিভাগের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশাল বকেয়া পরিশোধ ছিল বড় সমস্যা। বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা করায় এখন কম দামে জ্বালানি কেনা সম্ভব হচ্ছে এবং এলএনজি আমদানিতে প্রিমিয়াম খরচ কমেছে। এছাড়া বিপিসির তেল আমদানিতে জটিল শর্ত ও বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং গত পাঁচ মাসে ১৫০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

দুর্নীতি প্রতিরোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত একসময় দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ফিরে আসা কঠিন হলেও বিইআরসির ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া এবং দুর্নীতির সুযোগ সীমিত করার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কূপ খনন কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে এবং দুর্নীতির তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে পরবর্তী সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।

এসএএস/ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language