লিবিয়া উপকূলে ভয়াবহ নৌকাডুবিতে ৫৫ অভিবাসীর মৃত্যু, বেঁচে ফিরলেন মাত্র দুজন

লিবিয়া, ৯ ফেব্রুয়ারি – উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার উপকূলে অভিবাসীদের বহনকারী একটি রাবারের নৌকা উল্টে অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা আইওএম জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুটি শিশুও রয়েছে। সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার তথ্য উঠে আসে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, নৌকাডুবির ঘটনায় মাত্র দুজন নারী যাত্রী প্রাণে বেঁচে গেছেন এবং তারা উভয়েই নাইজেরিয়ার নাগরিক।
শুক্রবার লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ তাদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। জানা গেছে, ওই নৌকাটিতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও শরণার্থীরা ইউরোপে পাড়ি জমানোর উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিলেন। উত্তর-পশ্চিম লিবিয়ার উপকূলীয় শহর আল-জাওইয়া থেকে যাত্রা শুরুর প্রায় ছয় ঘণ্টা পর নৌকাটিতে পানি ঢুকে সেটি ডুবে যায়। আইওএমের তথ্যমতে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ৫০০ অভিবাসী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।
২০১১ সালে লিবিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় সাব-সাহারান আফ্রিকা থেকে আসা অভিবাসীদের জন্য লিবিয়া একটি প্রধান প্রস্থান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বেঁচে যাওয়া অভিবাসীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১১টার দিকে ত্রিপোলির পশ্চিমে অবস্থিত আল-জাওইয়া থেকে রাবারের নৌকাটি ছেড়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা পর শুক্রবার ভোরে জুওয়ারার উত্তরে নৌকাটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেতে বিলম্বের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। জীবিত উদ্ধার হওয়া দুই নারীর একজন জানিয়েছেন তিনি তার স্বামীকে হারিয়েছেন এবং অন্যজন তার দুই সন্তানকে হারিয়েছেন। আইওএমের উদ্ধারকারী দল তাদের জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছে। জানুয়ারি মাসে মধ্য-ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে বৈরি আবহাওয়ার মধ্যে একাধিক নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৩৭৫ জন অভিবাসী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে, লিবিয়ায় অভিবাসীরা মিলিশিয়া গোষ্ঠীর হাতে নির্যাতন, মানবপাচার এবং জোরপূর্বক শ্রমের শিকার হচ্ছেন।
আইওএম আরও জানিয়েছে, পাচারকারী চক্রগুলো অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ও সমুদ্রপথে চলাচলের অনুপযোগী নৌকায় মানুষ তুলে দিয়ে মুনাফা লুটছে, যার ফলে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। সংস্থাটি প্রাণহানি কমাতে চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের পথ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
এসএএস/ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬



