নির্বাচন ঘিরে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় গুজবের ছড়াছড়ি, খণ্ডিত তথ্যে বিভ্রান্ত ভোটাররা

কুমিল্লা, ৯ ফেব্রুয়ারি – কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার রামমোহন বাজারের একটি চায়ের দোকানে নির্বাচনী আলোচনার এক পর্যায়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াস মোল্লা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি ভিডিও দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, জনগণ নাকি আগামী পাঁচ বছর রাজনৈতিক নেতাদের পা ধরে থাকবে। সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী ছেলের পাঠানো স্মার্টফোনে ইউটিউব ঘেঁটে তিনি এই তথ্য পেয়েছেন বলে জানান। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইলিয়াস মোল্লা যে ভিডিওটি দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছেন, সেটি আসলে তারেক রহমানের বক্তব্যের একটি খণ্ডিত অংশ। গত ৪ ফেব্রুয়ারি বরিশালে এক সমাবেশে প্রতিপক্ষ দলের এক নেতার উদ্ধৃতি দিতে গিয়ে তারেক রহমান ওই কথাগুলো বলেছিলেন। কিন্তু একটি চক্র সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট অংশটি কেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে, যা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
শুধু এই একটি ঘটনা নয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনলাইন দুনিয়ায় গুজব ও তথ্য বিকৃতির প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের মতো মাধ্যমগুলোতে পুরনো ভিডিও, খণ্ডিত বক্তব্য এবং বিভ্রান্তিকর শিরোনাম ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি যশোরে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাকে রাজনৈতিক রং দেওয়া, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ভুয়া খবর এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামে সেনাবাহিনীর প্রতি ভুল নির্দেশনার ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। ফ্যাক্ট চেকিংয়ে দেখা গেছে, এসব তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে এখন সহজেই নেতাদের কণ্ঠ ও অবয়ব নকল করে ভুয়া ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। তথ্যের এই অবাধ প্রবাহের যুগে সত্যকে আড়াল করে মিথ্যা প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ঢাকাভিত্তিক ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’র সম্পাদক কদরুদ্দীন শিশির জানান, নির্বাচনের সময় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে গুজব এখন প্রধান অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও মূলধারার গণমাধ্যমগুলোর ফ্যাক্ট চেকিংয়ে আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তিনি সাধারণ ভোটারদের কোনো তথ্য বিশ্বাস করার আগে তা যাচাই করার এবং খণ্ডিত ভিডিওর পরিবর্তে পুরো বক্তব্য শোনার পরামর্শ দেন।
এদিকে নির্বাচনের মাত্র চার দিন বাকি থাকতে ভোট স্থগিত হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়লে নির্বাচন কমিশন জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করতে বাধ্য হয়। ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, নির্বাচন বা গণভোট স্থগিতের খবরটি সম্পূর্ণ গুজব এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময়েই ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এস এম/ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









