নির্বাচনে ১ লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন, নিরপেক্ষতার বার্তা সেনাপ্রধানের

ঢাকা, ৬ ফেব্রুয়ারি – ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীসহ সব স্টেকহোল্ডারের দুটি মূল দায়িত্ব ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। প্রথমত, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে বেসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যেকোনো প্রয়োজনে সহায়তা প্রদান করা।
দ্বিতীয়ত, সাধারণ জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া যে, সরকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সব বাহিনী সমন্বিতভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে বদ্ধপরিকর। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়ামে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি স্টেডিয়ামে স্থাপিত সেনাক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং মোতায়েনকৃত সদস্যদের পেশাদারি ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
সেনাসদরের সামরিক অপারেশন্স পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, এবার নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে মাঠ পর্যায়ে প্রায় এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যা বিগত নির্বাচনের তুলনায় প্রায় আড়াইগুণ। এর পাশাপাশি নৌবাহিনীর ৫ হাজার এবং বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জন সদস্য মাঠে রয়েছেন। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নির্বাচনী সরঞ্জাম ও জনবল পরিবহনে সামরিক হেলিকপ্টার ও জলযান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে সারা দেশে হেলিকপ্টার মোতায়েন থাকবে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনজুর আরও জানান, ভোটারদের নিরাপত্তা এবং ব্যালট বাক্সের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনী কঠোর অবস্থান নেবে।
নির্বাচনকেন্দ্রিক সব ধরনের ঝুঁকির মূল্যায়ন করে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং সেনাসদর থেকে পুরো পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এবারই প্রথম ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত টহলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন। প্রযুক্তিগত সহায়তার অংশ হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সুরক্ষা অ্যাপ, পুলিশের বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং ড্রোন ব্যবহার করা হবে। আইএসপিআর জানিয়েছে, সেনাপ্রধান ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় নিয়োজিত সদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করছেন।
মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়ানোকে এবারের নির্বাচনের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনজুর বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি অপপ্রচার রোধে গণমাধ্যমের সহায়তা প্রয়োজন। অস্ত্র উদ্ধার অভিযান প্রসঙ্গে তিনি জানান, গত ২০ জানুয়ারি থেকে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে অনেককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী কতদিন মাঠে থাকবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সরকার যতদিন প্রয়োজন মনে করবে, ততদিন সেনাবাহিনী মাঠে দায়িত্ব পালন করবে।
এসএএস/ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









