বাংলাদেশ

ভূমিকম্প ছাড়াই কম্পন অনুভব বা ‘সিসমোফোবিয়া’: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

বাংলাদেশ, ৪ ফেব্রুয়ারি – আপনি হয়তো অফিসে বসে কাজ করছেন কিংবা বাসায় বিশ্রাম নিচ্ছেন, হঠাৎ মনে হলো পায়ের নিচের মাটি বা চেয়ারটি কেঁপে উঠল। আতঙ্কিত হয়ে চারদিকে তাকালেন কিন্তু দেখলেন বাকি সবাই শান্ত এবং কোনো ভূমিকম্পই হয়নি। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ভূমিকম্পের পর অনেকের মধ্যেই এই অদ্ভুত অনুভূতি দেখা দিচ্ছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় ‘সিসমোফোবিয়া’ বা ভূমিকম্প ভীতি। বিশেষজ্ঞদের মতে এর পেছনে শারীরিক ও মানসিক দুটি কারণই থাকতে পারে। বারবার ভূমিকম্পের ফলে মানুষের মস্তিষ্কের ভয়ের কেন্দ্রটি অতি-সক্রিয় হয়ে যায় যাকে ‘পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার’ বলা হয়। এর ফলে সামান্য শব্দ বা চেয়ারের নড়াচড়াতেও মস্তিষ্ক বিপদের সংকেত দেয় এবং মনে হয় ভূমিকম্প হচ্ছে। এছাড়া শারীরিক কারণ হিসেবে কানের ভেতরের ভারসাম্য রক্ষাকারী তরল বা এন্ডোলিম্ফ ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে অস্থির হয়ে পড়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

এর ফলে ভূমিকম্প থেমে যাওয়ার অনেক পরেও শরীরে দুলুনি অনুভূত হতে পারে। এই সমস্যার উল্লেখযোগ্য উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে ভূমিকম্প ছাড়াই কম্পন অনুভব করা, বুক ধড়ফড় করা, শ্বাসকষ্ট হওয়া এবং অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় রাতের ঘুম নষ্ট হওয়া। ভারী ট্রাকের শব্দ বা সামান্য শব্দেও আতঙ্কিত হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এই অযৌক্তিক ভয় কাটাতে ভূমিকম্পের সময় করণীয় সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ও প্রস্তুতি রাখা জরুরি। ভয় যদি খুব বেশি হয় তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ‘কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি’ নেওয়া যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন জাপানের মতো যেসব দেশে বেশি ভূমিকম্প হয় সেখানকার মানুষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এর সাথে মানিয়ে নিয়েছে। বাংলাদেশেও নিয়মিত মহড়া বা ড্রিল মানুষের মনের ভয় কমাতে সাহায্য করতে পারে।

এ এম/ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language