হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন তেল ট্যাংকারকে ধাওয়া দিলো ইরানের নৌবাহিনী

তেহরান, ৪ ফেব্রুয়ারি – বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী একটি তেল ট্যাংকারকে ইরানের নৌবাহিনী ধাওয়া করে। তবে শেষ পর্যন্ত মার্কিন যুদ্ধজাহাজের পাহারায় ট্যাংকারটি আটকের চেষ্টা থেকে রক্ষা পেয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে সক্ষম হয়।
মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই দিন হরমুজ প্রণালীতে ঢোকার সময় ইরানি নৌবাহিনীর তিনটি সশস্ত্র স্পিডবোট ‘স্টেনা ইম্পেরেটিভ’ নামের মার্কিন ওই তেল ট্যাংকারটির গতিরোধ করার চেষ্টা করে।
সমুদ্র নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্থা ভ্যানগার্ড টেক তাদের গ্রাহকদের পাঠানো এক বার্তায় জানায়, ৫০ ক্যালিবার মেশিনগান লাগানো ইরানের অন্তত ছয়টি স্পিডবোট ট্যাংকারটিকে ঘিরে ফেলে। এ সময় ইরানি সেনারা ট্যাংকারটির নাবিকদের ইঞ্জিন বন্ধ করার নির্দেশ দেয় এবং জাহাজে ওঠার প্রস্তুতি নেয়। তবে ট্যাংকারটির ক্যাপ্টেন সেই নির্দেশ অমান্য করে দ্রুত গতি বাড়িয়ে দেন।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ দ্রুত সেখানে পৌঁছে ট্যাংকারটিকে নিরাপত্তা দিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়।
এদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স এজেন্সি বা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, তারা ওমানের উপকূল থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার উত্তরে একটি জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই স্থানেই মার্কিন পতাকাবাহী ট্যাংকারটি বাধার মুখে পড়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালী ও ওমান উপসাগরীয় এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজ নজরদারি ও আটকের ঘটনা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ। এই পথ দিয়েই বিশ্বের মোট বাণিজ্যিক তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও বিভিন্ন পদক্ষেপের জবাবে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে।
এনএন/ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









