যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে: খামেনির হুঁশিয়ারি

তেহরান, ১ ফেব্রুয়ারি – ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে কোনো ধরনের হামলা চালায় তবে তা একটি আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
ইরানের সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে রবিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এই বক্তব্য প্রচার করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই পারমাণবিক চুক্তি এবং অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ইস্যুতে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছেন। এমনকি তিনি ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন এবং এর অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন যে ট্রাম্প নিয়মিত রণতরী পাঠানোর কথা বলে ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করলেও ইরানি জাতি এতে ভীত নয় এবং এসব হুমকিতে তারা বিচলিত হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ইরান আগ বাড়িয়ে কোনো যুদ্ধের সূচনা করবে না বা অন্য কোনো দেশে আক্রমণ করতে চায় না।
তবে কেউ যদি ইরানের ওপর আক্রমণ বা হয়রানি করার দুঃসাহস দেখায় তবে ইরানি জাতি তার বিরুদ্ধে অত্যন্ত শক্ত জবাব দেবে।
তেহরান অবশ্য জানিয়েছে যে দুই দেশের এই উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো খোলা রয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে তারা ন্যায্য আলোচনার জন্য প্রস্তুত তবে তা যেন তাদের প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা খর্ব করার উদ্দেশ্যে না হয়।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর ছয়টি ডেস্ট্রয়ার এবং একটি বিমানবাহী রণতরীসহ বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। উল্লেখ্য যে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে ইরানে যে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল তা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর সরকারের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সরকারি হিসেবে এই সহিংসতায় ৩ হাজার ১১৭ জনের প্রাণহানির কথা বলা হলেও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
এনএন/ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









