সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংসদ সদস্যদের মুখে স্কচটেপ এঁটে দেওয়ার মতো

ঢাকা, ৩০ জানুয়ারি – প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ মন্তব্য করেছেন যে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনেকটা নিজ দলের সংসদ সদস্যদের মুখে স্কচটেপ এঁটে দেওয়ার মতো। তিনি মনে করেন এই বিধান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকাশে একটি বিশাল বাধা হিসেবে কাজ করে। এই ব্যবস্থার উত্তরণে সংস্কার প্রস্তাবে বলা হয়েছে যে অর্থবিল এবং আস্থা ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ দলের অনুগত থাকবেন। তবে অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে এমপিরা স্বাধীনভাবে তাদের মতামত প্রদান করতে পারবেন এমন প্রস্তাব করা হয়েছে।
গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে গতকাল বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ উল্লেখ করেন যে জুলাই সনদের মূল কথাই হলো মানুষের অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া। যেই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল এবং একই অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থান রচিত হয়েছে।
তিনি বলেন অনেক রক্তাক্ত পথ পাড়ি দিয়ে ৫৪ বছর পর আবার মানুষের অধিকার বুঝিয়ে দেওয়ার সুযোগ এসেছে এবং এই সুযোগ হেলায় হারানো উচিত হবে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত করে একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন জুলাই সনদ প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করবে। এটি এমন একটি সাম্য মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করবে যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে রাষ্ট্র ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির কোনো পার্থক্য করবে না। এই সনদ নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করবে।
আলী রীয়াজ বলেন ফ্যাসিবাদের নিষ্পেষণে জর্জরিত রাষ্ট্রকে উদ্ধার করতে প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে ব্যাপক সংস্কার করতে হবে। সেই সংস্কারের লক্ষ্যেই আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ বলা এখন সময়ের দাবি। রাষ্ট্রপতির নিয়োগ ও দায়িত্ব সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেন বিগত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই সবকিছু হতো। সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্য কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহণ করতে পারেন না।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন বা সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয় এবং বিচার ব্যবস্থায় বিচারপতি নিয়োগ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পদায়ন করা হয় বলে বলা হলেও বাস্তবে এগুলো তৎকালীন সরকারপ্রধানের ইচ্ছা অনুসারেই হয়ে থাকে।
এনএন/ ৩০ জানুয়ারি ২০২৬









