সব দোষ যেন আমার, অতিথি পাখিরা ফাঁদ পাতছে

ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি – বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন যে, সব কিছুতেই তাকে অহেতুক দোষারোপ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানালেও সেটাকে দোষ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বলা হচ্ছে আমি নাকি হুমকি দিয়েছি, যা শুনে আমি বিস্মিত। পরিস্থিতি এমন যে, কোথায় কী ঘটে তার সব দায় যেন মির্জা আব্বাসের।’
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর মালিবাগ ও গুলবাগ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
পরবর্তীতে তিনি শাহজাহানপুর, মালিবাগ প্রথম লেন, মৌচাক মোড় হয়ে রাজারবাগ পুলিশ গেট পর্যন্ত গণসংযোগ কার্যক্রম চালান। বিকেলের দিকে ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত একটি বিশাল মিছিলে তিনি নেতৃত্ব দেন। তার পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সন্ধ্যায় শাহজাহানপুর ঝিল মসজিদ এলাকা এবং রাতে ফকিরেরপুল ও আরামবাগ পানির ট্যাংক এলাকায় গণসংযোগ করার কথা ছিল।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কঠোর সমালোচনা করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘তোমাদের বয়সে আমি পুরো ঢাকা শহর চষে বেড়িয়েছি। এই শহরে আমার যত বন্ধু ও আত্মীয়স্বজন আছে, তোমাদের তত পরিচিতিও নেই। আমি কারো পাতা ফাঁদে পা দেব না। এলাকার উন্নয়নের কথা বলে ভোট চাও। তোমরা অযথা পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করার চেষ্টা করছো।’ সাবেক এই মন্ত্রী আরও যোগ করেন, নির্বাচনের সময় কিছু ‘অতিথি পাখি’ দেখা যায়, পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। ১৯৯১ সাল থেকে তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং সুখে-দুঃখে এলাকাবাসীর পাশে ছিলেন। তিনি বলেন, অন্য প্রার্থীরা বিপদে পালিয়ে গেলেও তিনি মাটি কামড়ে পড়ে ছিলেন।
নিজের জনসেবার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একাধিকবার সংসদ সদস্য থাকাকালে কাউকে খালি হাতে ফেরাননি। জেলখানায় থাকাকালে তার স্ত্রী ও কর্মকর্তারা এলাকাবাসীর সমস্যা সমাধান করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আজ যারা বড় কথা বলছেন তারা অতীতে কয়জনের বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছেন? মির্জা আব্বাস বলেন, কিছু ‘মাছের পোনা’ এসেছে যাদের কোনো ঠিকঠিকানা নেই।
চাঁদাবাজির অভিযোগ খণ্ডন করে তিনি বলেন, তাকে লাল কার্ড দেখানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অথচ চাঁদাবাজি তো প্রতিপক্ষরাই করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণই ব্যালটের মাধ্যমে তাদের লাল কার্ড দেখিয়ে দেবে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে এবং বিএনপিকে বিনা কারণে দোষারোপ করা হচ্ছে।
এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে ঢাকা-৮ আসনে ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ঘটনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, মির্জা আব্বাসের নির্দেশে এবং তারেক রহমানের সম্মতিতে এই হামলা হয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, ছাত্রদল নামধারী মির্জা আব্বাসের নিজস্ব বাহিনী এই হামলা চালিয়েছে এবং তিনি এর বিচার জনগণের কাছে দিয়েছেন।
এনএন/ ২৮ জানুয়ারি ২০২৬









