২০ বছর পর চট্টগ্রামে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান

ঢাকা, ২৪ জানুয়ারি – ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জনসভায় অংশ নিতে চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এটি তার চট্টগ্রামে আসার ২০ বছর পরের সফর।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেল ৫টা ৪৯ মিনিটে তিনি গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবন থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন। এরপর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বিমানযোগে চট্টগ্রামে পৌঁছান।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে চট্টগ্রামে যান। রোববার (২৫ জানুয়ারি) তিনি সেখানে দলের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন।
রোববারের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। দুই দশকের বেশি সময় পর তার চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে নগর ও আশপাশের জেলার নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। আয়োজকদের আশা, পলোগ্রাউন্ড মাঠে কয়েক লাখ মানুষ উপস্থিত হবে এবং কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে।
ঘোষিত সফরসূচি অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে অবস্থান করবেন তারেক রহমান। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার পর বিকেলে চট্টগ্রাম ছাড়বেন। এরপর বিকেল ৪টায় ফেনীর পাইলট স্কুল মাঠে, বিকেল সাড়ে ৫টায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠে এবং সন্ধ্যা ৭টায় সুয়াগাজীর ডিগবাজির মাঠে জনসভায় অংশ নেবেন। একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দাউদকান্দির কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আরেকটি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। ঢাকায় ফেরার পথে রাত সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠে শেষ জনসভায় অংশ নিয়ে গভীর রাতে গুলশানে নিজের বাসভবনে ফিরবেন।
মহাসমাবেশ উপলক্ষে কয়েকদিন ধরে পলোগ্রাউন্ড মাঠে প্রস্তুতি চলে। মাঠের পশ্চিম পাশে প্রায় দুই হাজার বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, মঞ্চে একসঙ্গে প্রায় দেড় হাজার মানুষ বসতে পারবেন। মঞ্চের সামনে আরও পাঁচ হাজারের বেশি চেয়ার রাখা হয়েছে।
মাঠ ও আশপাশে দুই শতাধিক মাইক ও ১০টি শক্তিশালী সাউন্ডবক্স স্থাপন করা হয়েছে। পলোগ্রাউন্ড থেকে কদমতলী ও টাইগারপাস পর্যন্ত প্রায় ২০০টি মাইক ব্যবহার হবে। শনিবার মাঠে সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠ সমতল করা হয়েছে এবং চারপাশে নিরাপত্তা ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের গাড়ি দিয়ে মাঠে পানি ছিটানো হচ্ছে। একের পর এক গাড়িতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মাঠে প্রবেশ করছেন।
মহাসমাবেশ উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরী কঠোর নিরাপত্তার আওতায় রাখা হয়েছে। প্রায় দুই হাজার পুলিশ মোতায়েন থাকবে। মঞ্চসহ পুরো এলাকা তিন স্তরের নিরাপত্তা জোনে ভাগ করা হয়েছে—রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন। মঞ্চকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে কেবল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং চট্টগ্রামের ২৩টি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা অবস্থান করতে পারবেন। মঞ্চের সামনের অংশ ইয়েলো জোন হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে সাংবাদিক ও নারীদের জন্য আলাদা ব্লক থাকবে। পুরো মাঠকে গ্রিন জোন হিসেবে রাখা হয়েছে।
২০০৫ সালে সর্বশেষ চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন তারেক রহমান। তখন তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। সেই সফরের পর দীর্ঘ সময় তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দলীয় নেতারা এই সফরকে তার রাজনৈতিক ভূমিকার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন।
এনএন/ ২৪ জানুয়ারি ২০২৬









