জাতীয়

প্রথমবারের মতো নির্বাচনে পোস্টার ছাড়া প্রচারণা, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

ঢাকা, ২২ জানুয়ারি – এইবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা প্রথমবারের মতো পোস্টার ছাড়া শুরু হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ১২টার পর থেকে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারবেন।

এবার আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বেশ কড়াকড়ি করেছে। বিধি ভাঙলে ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা এবং দলের জন্য দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপের বিধান রয়েছে। তাছাড়া, গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আরপিওতে প্রার্থিতা বাতিলেরও বিধান রাখা হয়েছে।

বুধবার ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রার্থীরা প্রতীক পাওয়ার পরই ভোটের মাঠে প্রচারণা শুরু করতে পারতেন, কিন্তু এবার প্রচারণা শুরু হয়েছে একদিন পরে, অর্থাৎ বুধবার রাত ১২টার পর। নির্বাচনি প্রচারণার সময় কোনো ধরনের ড্রোন, কোয়াডকপ্টার বা এ জাতীয় যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।

নির্বাচনে আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো নির্বাচনি এলাকায় একক জনসভায় একসাথে তিনটির বেশি মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করা যাবে না। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নারীদের সাইবার বুলিং রোধ, বিদেশে কোনো প্রার্থীর পক্ষে সশরীরে প্রচারণা না চালানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মিথ্যা বা অপপ্রচার চালানোর ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

প্রচার ক্ষেত্রে বিদ্যুত ও আলোকসজ্জার ব্যবহার সীমিত, বিলবোর্ড ব্যবহার নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছে। সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও প্রার্থীর হয়ে প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। প্রচারণার সময় পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহার বাধ্যতামূলক এবং শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেল রাখতে হবে।

গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আরপিওতে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান নতুনভাবে যুক্ত করা হয়েছে। গণমাধ্যমের সংলাপ এবং সব প্রার্থীর এক মঞ্চে ইশতেহার ঘোষণা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার সংশ্লিষ্ট আসনে একদিনে সব প্রার্থীর ইশতেহার পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন।

নতুন বিধিমালায় প্রযুক্তি ও পরিবেশ সুরক্ষায় কড়াকড়ি আনা হয়েছে। ড্রোন বা কোয়াডকপ্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দলীয় প্রধান বা সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য কেউ হেলিকপ্টার বা আকাশযান ব্যবহার করতে পারবেন না, লিফলেট বা প্রচারসামগ্রী আকাশ থেকে বিতরণ করা যাবে না। ভোটকেন্দ্রের ১৮০ মিটার এলাকায় ভোটার স্লিপ বিতরণ নিষিদ্ধ, স্লিপের আকার সর্বোচ্চ ১২ সেন্টিমিটার গুণ ৮ সেন্টিমিটার।

মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সময় ও শব্দসীমা সীমিত—দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেল। ভোটার স্লিপ বিতরণে প্রার্থীর নাম, ছবি, পদ বা প্রতীক উল্লেখ করা যাবে না।

বিধিমালায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে কড়াকড়ি রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী, এজেন্ট বা দলের পক্ষ থেকে প্রচারণা শুরুর আগে রিটার্নিং অফিসারের কাছে সমস্ত প্রাসঙ্গিক সোশ্যাল মিডিয়া তথ্য দাখিল করতে হবে।

প্রার্থী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, পক্ষপাতমূলক, বিদ্বেষপূর্ণ, অশ্লীল বা মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি বা প্রচার করতে পারবে না। ফেসবুক বা অন্যান্য মাধ্যমে প্রতিপক্ষ, নারী, সংখ্যালঘু বা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ঘৃণাত্মক, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহারও নিষিদ্ধ। সত্যতা যাচাই ছাড়া নির্বাচনি বিষয়ক কোনো কনটেন্ট শেয়ার বা প্রকাশ করা যাবে না।

এনএন/ ২২ জানুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language