উত্তর আমেরিকা

নোবেল না পাওয়ায় কেবল শান্তির কথা ভাবতে বাধ্য নই, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ চাই

ওয়াশিংটন, ২০ জানুয়ারি – নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে লেখা একটি চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়া কারণে তিনি আর ‘শুধু শান্তির কথা ভাবতে’ বাধ্য নন। একই সঙ্গে তিনি আবারও গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যারা যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রচেষ্টায় বাধা দিচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গর স্টোর এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব আপত্তি জানিয়েছিলেন। এই প্রতিক্রিয়ার জবাবে ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠান।

চিঠিতে ট্রাম্প লিখেছেন, “আপনার দেশ আমাকে আটটির বেশি যুদ্ধ থামানোর পরও নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়নি। তাই এখন আমি আর শুধু শান্তির কথা ভাবতে বাধ্য নই। যদিও শান্তি সবসময় প্রাধান্য পাবে, এখন আমি ভাবতে পারি কোনটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো ও সঠিক।”

ট্রাম্প বেশ কিছুদিন ধরে ইউরোপের দেশ ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই পথে কোনো দেশ বাধা দিলে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন তিনি। তার এই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয় ভাবছে।

২০২৫ সালে শান্তিতে নোবেল না পেলেও পদকটি শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের হাতে পৌঁছেছে। এবারের শান্তিতে নোবেল পাওয়া ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের হাতে পদক তুলে দিয়েছেন। ট্রাম্প এ নিয়ে খুশি হলেও নরওয়ের নোবেল কমিটি জানিয়ে দিয়েছে, নোবেল পদক যাকে দেওয়া হোক, পুরস্কার বিজয়ীর নামেই থাকবে।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিতে ট্রাম্প পুরোনো দাবিও পুনরায় তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়া ও চীনের কাছে গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে পারবে না ডেনমার্ক। গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা ডেনমার্কের কাছে কেন এখনও আছে, তা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত দ্বীপটি নিরাপদ নয়।

ডেনমার্ক পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য। জোটের নিয়ম অনুযায়ী কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্য দেশগুলো রক্ষায় এগিয়ে আসে। ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের দিকে মন দেয়ায় ইউরোপীয় নেতারা খুশি নন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতিতে ন্যাটো ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।

এনএন/ ২০ জানুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language