জাতীয়

পুরোনো ঘুণেধরা রাজনীতি নয়, নতুন রাজনীতি দেখতে চান জামায়াতে আমির

ঢাকা, ১৬ জানুয়ারি – দুর্নীতি আর খুনের রাজনীতি নয়, তরুণদের আকাঙ্ক্ষা ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার রাজনীতির বাংলাদেশ দেখতে চান বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, পুরোনো ঘুণেধরা রাজনীতি নয়, নতুন ধরনের রাজনীতিই তারা দেখতে চান।

তিনি বলেন, অতীতের মতো কোনো নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং এবার আর দেখতে চান না এবং এটা একেবারেই বরদাস্ত করবেন না।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৯টার দিকে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণার আগে নিজের বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫৪ বছরের যে ঘুণেধরা রাজনৈতিক অবস্থা থেকে জাতি মুক্তি চায়, সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যেই তারা একত্রিত হয়েছেন। তিনি বলেন, তারা আর সেই পুরোনো রাজনীতি চান না, যে রাজনীতি ফ্যাসিবাদ হয়ে জাতির ঘাড়ে চেপে বসে, কিংবা নিরীহ মানুষের জীবন রক্ষার বদলে মানুষ খুনের রাজনীতি করে। সেই রাজনীতিতে তারা আর ফিরতে চান না।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিতে জড়িত রাজনীতিও তারা আর দেখতে চান না। তারা সত্যিকার অর্থে জনগণের আকাঙ্ক্ষা, বিশেষ করে তরুণদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ দেখতে চান।

তিনি বলেন, সেই বাংলাদেশ গড়ার জন্যই এই অন্তর্ভুক্তিমূলক আয়োজন। যারা জুলাই বিপ্লবকে স্বীকৃতি দেন, ধারণ করেন এবং সেই বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন, মূলত তারাই এখানে একত্রিত হয়েছেন।

দেশবাসীর কাছে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারাও পরিবর্তন চান, আর আমরা সেই পরিবর্তনের দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নেমেছি। জনগণের দেওয়া দায়িত্ব পালন করতেই তারা সামনে এসেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মানুষ সবকিছু দিয়ে তাদের পাশে থাকবে, সমর্থন ও ভালোবাসা দেবে এবং জনগণের বিজয় নিশ্চিত করবে।

তিনি আবারও বলেন, অতীতের মতো কোনো নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং তারা দেখতে চান না এবং সেটা একেবারেই বরদাস্ত করবেন না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যেকোনো ধরনের কারচুপি, ভোট ডাকাতি ও ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান থাকবে স্পষ্ট। তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজ তিনটি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার বয়স হওয়ার পরও ভোট দিতে পারেনি। তারা সেই ভোট নিশ্চিত করতে চান।

যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তোমরা ভোট দেওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে আসবে এবং ভোটের হিসাব নিয়ে ঘরে ফিরবে। তারা যুবসমাজের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, আজকের এই প্রত্যাশা পূরণে এবং ঐক্য গঠনে অনেকের বড় অবদান রয়েছে। তিনি ৪৭, ৭১ ও ২৪সহ জাতির বিভিন্ন টার্নিং পয়েন্টে যারা জীবন দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন এবং যারা দফায় দফায় বিজয় এনে দিয়েছেন, সবার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

নিজের বক্তব্যে বিপ্লবী সহযোদ্ধা শহীদ শরীফ উসমান বিন হাদির কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, হাদি ছিলেন বাংলাদেশের জনগণের জীবন্ত কণ্ঠ, তিনি নিজেই ছিলেন একটি বিপ্লব এবং একটি বিপ্লবের আইকন। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, জনগণ তা বুঝে। তিনি বলেন, তারা হাদির বিচার চান। যদি জনগণ এই বিচার দেখতে পায়, তাহলে জাতির জন্য জীবন দিতে আরও অনেকে এগিয়ে আসবে। কিন্তু এই বিচার যদি চাপা দেওয়া হয়, তাহলে দেশে আর বিপ্লবীর জন্ম হবে না। তাই হাদি হত্যাসহ এ ধরনের বিপ্লবীদের হত্যার বিচার খুবই জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যেন জনগণের আকাঙ্ক্ষার নির্বাচন হয় এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনে পরিণত হয়। সেই নির্বাচনের মাধ্যমেই একটি সোনালী সমাজ গঠনের নতুন অধ্যায় শুরু হোক।

এর আগে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। শুরুতেই প্রাথমিক বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

প্রাথমিক বক্তব্যে মামুনুল হক গত ১৫ বছরের দুঃসহ সময়ের গুম, খুন ও হতাহতের কথা স্মরণ করেন এবং জুলাই আন্দোলনে শহীদদের মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা পূরণেই এই পথচলা শুরু হয়েছে। জুলাই সনদের দাবি পূরণে পাঁচ দফা দাবিতে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ১১টি রাজনৈতিক দল ‘ওয়ান বক্স’ নীতিতে একত্রিত হয়েছে। তিনি দেশবাসীর প্রতি হ্যাঁ ভোট দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ও মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা।

এনএন/ ১৬ জানুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language