জাতীয়

দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক দুদক কমিশনার জহুরুল হক দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদ

ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি – বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার মো. জহুরুল হককে প্রায় তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হন। দুপুর দেড়টার দিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি কার্যালয় ত্যাগ করেন। তবে এ সময় সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত তথ্য জানাননি। তবে অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দসহ একাধিক বিষয়ে জহুরুল হক ও তাঁর স্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২–১৩ সালের দিকে জহুরুল হকের স্ত্রী একটি রাজউক প্লট বরাদ্দ পান। কিন্তু জহুরুল হক ২০১৪ সালে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করেন, তাঁর স্ত্রীর নামে কোনো প্লট নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে ছিল না এবং অসাবধানতাবশত তা সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ হয়নি।

জহুরুল হকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তদন্তাধীন মামলার আসামিদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ, জালিয়াতির মাধ্যমে রাজউকের প্লট বরাদ্দ নেওয়া, দুটি বড় টেলিকম অপারেটরের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচার করে বিভিন্ন দেশে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক।

এসব অভিযোগ অনুসন্ধানে গত বছরের জানুয়ারিতে দুদকের পরিচালক এস এম এম আখতার হামিদ ভূঞার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়। দলে রয়েছেন সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম ও উপ-সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন।

এর আগে, গত ৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের টার্মিনেশন রেট ও রেভিনিউ শেয়ার ‘বেআইনিভাবে’ কমিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি করার অভিযোগে জহুরুল হকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। একই সঙ্গে তাঁর পাসপোর্ট বাতিল করে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১০ মার্চ জহুরুল হক দুদকের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ক্ষমতার পালাবদলের পর ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর তিনি পদত্যাগ করেন।

এনএন/ ১৪ জানুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language