উত্তর আমেরিকা

গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা আমার জন্য মনস্তাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, বললেন ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ১২ জানুয়ারি – ডেনমার্কের মালিকানাধীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নিতে একের পর এক কড়া মন্তব্য করে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি যে কোনো উপায়ে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নেওয়ার কথা বলেছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, এই দ্বীপের মালিকানা তার জন্য মনস্তাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

রোববার (১১ জানুয়ারি) নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা ‘মনস্তাত্ত্বিকভাবে আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ’।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিষয়টি তিনি ‘সঠিকভাবে’ মীমাংসা করতে চান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ওই ভূখণ্ডের মালিকানা নেওয়া, কারণ এটি মার্কিন ‘সাফল্যের জন্য মনস্তাত্ত্বিকভাবে প্রয়োজনীয়’।

ট্রাম্প বলেন, মালিকানা থাকলে এমন কিছু সুযোগ-সুবিধা ও সক্ষমতা পাওয়া যায়, যা শুধু কাগজে স্বাক্ষর করলেই পাওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সেখানে একটি সামরিক ঘাঁটিও স্থাপন করা যেতে পারে।

গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সেনা মোতায়েনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, তার মনে হয় ‘এটা প্রয়োজন হবে না’। তবে এর আগে তিনি এটাও বলেছিলেন, প্রয়োজনে সেখানে ‘আরও বেশি’ সেনা মোতায়েন করা হতে পারে।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা কমিশনার আন্দ্রিয়ুস কুবিলিউস সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি বলপ্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করে, তাহলে তা ন্যাটোর অবসান ডেকে আনতে পারে। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো ডেনমার্কের পাশে দাঁড়াতে বাধ্য হবে।

এ ছাড়া প্রায় ২১ লাখ ৬৬ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় একসঙ্গে থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের ছয়টি প্রভাবশালী দেশ। দেশগুলো হলো ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন এবং যুক্তরাজ্য।

তবে ট্রাম্পের অভিযোগ, গ্রিনল্যান্ড এলাকায় রাশিয়া ও চীনের সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে এবং ডেনমার্কের পক্ষে এই দ্বীপ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব নয়। তার মতে, এই পরিস্থিতিতে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এনএন/ ১২ জানুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language