জাতীয়

প্রচারণা শুরু হলে নির্বাচনের আসল চিত্র স্পষ্ট হবে

ঠাকুরগাঁও, ১২ জানুয়ারি – বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দলের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ মোটামুটি ভালোই মনে হচ্ছে। তবে প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে যখন প্রচারণা শুরু হবে। তার আগে সেটা বোঝা সম্ভব নয়। এখন সবাই নিজেদের সাংগঠনিক বিষয়গুলো গুছিয়ে নিচ্ছে, মনোনয়নের কাজ করছে। প্রচার শুরু হওয়ার পরেই নির্বাচনের আসল চিত্র স্পষ্ট হবে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়িতে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় ক্রিকেট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তিনি আগে ক্রিকেট খেলতেন এবং ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সদস্য ছিলেন। এখন আর ক্রিকেট খেলেন না, রাজনীতি করেন। তার মতে, ক্রিকেটের সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতি স্পষ্টভাবে জড়িত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সম্মান আছে এবং দেশের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা হয়েছে, যা আসলে দেশকেই অপমান করা। এ ক্ষেত্রে তিনি মনে করেন ক্রিকেট বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার সঙ্গে তারা একমত। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ছোটখাটো বিষয়গুলো নিজেদের মধ্যে বসে সমাধান করাই ভালো।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারা খুবই উদ্বিগ্ন এবং তিনি এটাকে সরকারের ব্যর্থতা মনে করেন। তার ভাষায়, এখন পর্যন্ত অস্ত্র উদ্ধারের কাজ ঠিকভাবে হয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিস্থিতিও তার কাছে খুব একটা উন্নত বলে মনে হয়নি। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন চলাকালে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং ভালো অবস্থায় আসবে।

বড় দুটি দল আওয়ামী লীগের ভোট কেটে নেওয়ার চেষ্টা করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বড় দুটি দল বলতে কোন দুটি দল বোঝানো হচ্ছে। তিনি বলেন, এতদিন বড় দল বলতে আওয়ামী লীগকেই বোঝানো হতো, যেটি এখন নিষিদ্ধ। তার মতে, বিষয়টি সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের কাছে যাচ্ছে একটি পরীক্ষিত রাজনৈতিক দল হিসেবে। তার দাবি, দেশের যত ভালো অর্জন আছে, তার সবই বিএনপির হাত ধরে এসেছে। একদলীয় ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে আসা, প্রেসিডেন্সিয়াল ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় ব্যবস্থায় যাওয়া, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা—সবই বিএনপি করেছে। অতীতেও করেছে এবং ৩১ দফার মাধ্যমে আরও নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে যে সংস্কারগুলো সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে, সেগুলোর সবই বিএনপির প্রস্তাবের মধ্যেই ছিল বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপি অতীতে এককভাবে সরকার পরিচালনা করেছে এবং সবচেয়ে ভালো কাজগুলো করতে সক্ষম হয়েছে।

দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, তারেক রহমান অবশ্যই উত্তরাঞ্চলে আসবেন। তিনি বলেন, বগুড়া তার পিতৃভূমি এবং দিনাজপুরে তার নানীর বাড়ি। রংপুরে তিনি শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য শহীদদের কবরেও শ্রদ্ধা জানাবেন।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণভোটের প্রচার বিএনপির দায়িত্ব নয়, এটি জনগণের দায়িত্ব। গণভোটে হ্যাঁ বা না—দুটোই আছে, জনগণ যেটা চাইবে সেটাই হবে। তিনি বলেন, যারা সব সময় ফ্যাসিস্টদের ভয় পায়, নিজেরা কিছু করে না এবং বিদেশে বসে বড় বড় কথা বলে, তাদের কাছে এসব বিষয় বড় মনে হয়। বিএনপির কাছে এগুলো বড় কিছু নয়। তার ভাষায়, ফ্যাসিস্টকে তাড়াতেও তারা জানে, মারতেও জানে এবং মার খেতেও জানে।

তিস্তা ইস্যু নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এ বিষয়ে তাদের স্পষ্ট অঙ্গীকার আছে। তিস্তা, পদ্মা এবং অন্যান্য অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা হবে এবং ন্যায্য হিস্যা আদায় করা হবে। তিনি বলেন, একটি দেশ আরেকটি দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও প্রত্যাশার ভিত্তিতে সব ধরনের দাবি আদায়ের চেষ্টা করবে। তার মতে, যদি সঠিকভাবে কূটনৈতিক আচরণ করা যায়, তাহলে ভারতের দিক থেকেও বিরূপ আচরণ কমে আসবে।

এনএন/ ১২ জানুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language