ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানির ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ০৭ জানুয়ারি – ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার পর এবার দেশটি থেকে জ্বালানি তেল আমদানির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচলিত দামে এই তেল বিক্রি করা হবে। ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি এতদিন আন্তর্জাতিক বাজারে স্বাভাবিকভাবে তেল রপ্তানি করতে পারছিল না।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, “ভেনেজুয়েলা থেকে স্টোরেজ জাহাজে সরাসরি তেল এনে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে খালাস করা হবে। এরপর বাজারদরে তা বিক্রি হবে। এটি ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের জনগণের জন্যই লাভজনক হবে।” দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জ্বালানিসম্পদ মন্ত্রী ক্রিস রাইটকে নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার তেল পাঠাতে সম্মত হয়েছে এবং ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তেল মজুত থাকা দেশ। ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্যমতে, দেশটির মাটিতে প্রায় ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে, যা বৈশ্বিক মোট মজুতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
তবে বিপুল মজুত থাকা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার দৈনিক তেল উৎপাদন তুলনামূলক কম—গড়ে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল। আন্তর্জাতিক বাজারে দৈনিক সরবরাহের মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ আসে দেশটি থেকে।
ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল ভারী ও ঘন প্রকৃতির হওয়ায় পরিশোধনে বিশেষ প্রক্রিয়া প্রয়োজন হয়। তবে পরিশোধনের পর এই তেল থেকে উন্নতমানের ডিজেল, অ্যাসফল্ট ও শিল্পকারখানায় ব্যবহারের উপযোগী বিভিন্ন জ্বালানিপণ্য উৎপাদন সম্ভব।
এনএন/ ০৭ জানুয়ারি ২০২৬









