উত্তর আমেরিকা

ভেনেজুয়েলার মতো কোনো পদক্ষেপ মানবে না মেক্সিকো, কড়া বার্তা সরকারের

মেক্সিকো সিটি, ০৭ জানুয়ারি – ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মেক্সিকো। একই সঙ্গে এমন পদক্ষেপ মেক্সিকোর ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম।

শনিবার মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে নিজ বাসভবন থেকে আটক করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মেক্সিকো নিয়েও সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, মাদক কার্টেলগুলো মেক্সিকো নিয়ন্ত্রণ করছে এবং এ বিষয়ে ‘কিছু একটা করতেই হবে’।

এ পরিস্থিতিতে সোমবার সকালে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ভেনেজুয়েলা বিষয়ে মেক্সিকোর অবস্থান ব্যাখ্যা করে একটি লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম। তিনি বলেন, “আমরা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করি। লাতিন আমেরিকার ইতিহাস প্রমাণ করে—বিদেশি হস্তক্ষেপ কখনো গণতন্ত্র, কল্যাণ বা স্থায়ী স্থিতিশীলতা বয়ে আনেনি।”

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে ওয়াশিংটনের নীতির সমালোচনায় শেইনবাউম সবচেয়ে সরব অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে অপসারণের বিরুদ্ধে অঞ্চলজুড়ে সবচেয়ে শক্ত প্রতিক্রিয়াও এসেছে মেক্সিকোর পক্ষ থেকেই।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই কঠোর ভাষার মাধ্যমে শেইনবাউম স্পষ্ট করেছেন—মাদক পাচারের অজুহাতে মেক্সিকোর ভেতরে ভেনেজুয়েলার মতো একতরফা সামরিক অভিযান মেনে নেওয়া হবে না। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার, সন্ত্রাসবাদ ও অস্ত্রসংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ এনেছে। সোমবার নিউইয়র্কের একটি আদালতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং যুদ্ধবন্দি হিসেবে বিবেচনার আবেদন জানান।

তবে কূটনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন চিত্রও দেখা যাচ্ছে। ভেনেজুয়েলায় অভিযানের পর মেক্সিকো সিটি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদারের চেষ্টা চলছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ালে একতরফা মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মেক্সিকোর এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, “যৌথ নিরাপত্তা উদ্যোগ ও কার্টেলবিরোধী অভিযান শক্তিশালী করাই যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সামরিক পদক্ষেপ ঠেকানোর প্রধান উপায়।”

এনএন/ ০৭ জানুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language