সৌদি আরবে একবছরে রেকর্ডসংখ্যক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

রিয়াদ, ০১ জানুয়ারি – মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে ২০২৫ সালে অন্তত ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এক বছরে সর্বোচ্চসংখ্যক ফাঁসি কার্যকরের নতুন রেকর্ড গড়েছে দেশটি। বুধবার দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক বছরে সৌদি আরবের ঘোষিত ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধের’ ফলে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। যাদের অনেককে কয়েক বছর আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, আইনি প্রক্রিয়া ও দণ্ডাদেশ শেষে এখন তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে।
দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কেবল ২০২৫ সালেই মাদকসংক্রান্ত মামলায় ২৪৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে এএফপির পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।
২০২৫ সালের এই পরিসংখ্যানের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয় বছর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নতুন রেকর্ড গড়েছে সৌদি আরব। এর আগে ২০২৪ সালে দেশটিতে ৩৩৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
প্রায় তিন বছর মাদকসংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত রাখার পর ২০২২ সালের শেষ দিকে আবারও এই দণ্ড কার্যকর শুরু করে সৌদি আরব।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, আরব বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ সৌদি আরব ক্যাপটাগনের অন্যতম বৃহৎ বাজারও। এই অবৈধ উত্তেজক মাদক ক্ষমতাচ্যুত নেতা বাশার আল-আসাদের শাসনামলে সিরিয়ার সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্য ছিল।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন। মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর মহাসড়ক ও সীমান্ত এলাকায় পুলিশের চেকপোস্ট বাড়িয়েছে সৌদি আরব। এসব অভিযানে লাখ লাখ ক্যাপটাগন জব্দ এবং বহু পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দেশটিতে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযানে সবচেয়ে বেশি ধরপাকড়ের শিকার হয়েছেন বিদেশিরা। মৃত্যুদণ্ড ব্যবহারের কারণে সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনার মুখে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই দণ্ডকে অতিরিক্ত বলে আখ্যায়িত করেছে এবং বিশ্বের কাছে আধুনিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার সৌদি প্রচেষ্টার সঙ্গে এর স্পষ্ট বৈপরীত্যের কথা বলেছে।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের ধারাবাহিক নির্ভরতা কার্যত দেশটির নেতা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ সংস্কার কর্মসূচির মূল ধারণা—আরও উন্মুক্ত ও সহনশীল সমাজ গঠনের—ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করছে।
তেলের ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে সৌদি আরব পর্যটন অবকাঠামো এবং ২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপসহ বড় ক্রীড়া আয়োজনের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োজন এবং আপিলের সব সুযোগ শেষ হওয়ার পরই এই দণ্ড কার্যকর করা হয়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ১৯৯০ সাল থেকে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের তথ্য নথিভুক্ত করে আসছে। দেশটির এর আগের সময়ের পরিসংখ্যান সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য খুব বেশি পাওয়া যায় না।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট
এনএন/ ০১ জানুয়ারি ২০২৬









